আজকাল ওয়েবডেস্কঃ চিংড়িঘাটায় মেট্রো সংক্রান্ত কাজের সূচনার পরেই ফের বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার এই সদস্য। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি।
এ দিন চিংড়িঘাটার কাজ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “১৫ তারিখ থেকে প্রথম কাজের দিন শুরু হয়ে গিয়েছে। বেলেঘাটা-নিউটাউন-এয়ারপোর্ট মেট্রোর জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে আমাদের সরকার। এটা মানুষের ট্যাক্সের টাকা, আর সেই সুবিধা এবার সাধারণ মানুষ পাবেন।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার এতদিন মেট্রো প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করছিল। তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইতেন না যে মেট্রো চলুক। রাস্তা হবে না, মেট্রো চলবে না, সরকারি বাসও ঠিকমতো থাকবে না তাহলে মানুষ যাবে কী করে? আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি মেট্রোকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এর ফলে যানজট অনেকটাই কমবে।”
এদিন হাওড়া স্টেশনের বাইরে হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও সরব হন বিজেপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, “রেলের জায়গা ও সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা হয়েছে। তৃণমূলের সহযোগিতায় কিছু লোক, দালাল ও গুণ্ডারা সরকারি জায়গা অবৈধভাবে ব্যবহার করে লাভ নিচ্ছে। ধীরে ধীরে সব পরিষ্কার হবে।”
অন্যদিকে, কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রীর বৈঠক নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “উনি এখন লিগ্যাল সেলের সদস্য হয়ে যান, ওটাই ভাল। বিধানসভায় আসতে পারেননি, কোথাও তো থাকতে হবে, প্রতিদিন নাটক করতে হবে। উনি যে কালো কোট পরে গিয়েছেন, সেটা পড়ার অধিকার আছে কিনা সেই প্রশ্নও উঠেছে।”
রাজ্যের রাজনৈতিক হিংসা প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তিনি। দিলীপ ঘোষের দাবি, ২০২১ সালে সাড়ে ১২ হাজার হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সমস্ত মামলা আবার খোলা হবে। কমিশন তৈরি হয়েছিল, কিন্তু কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের লোকেরা যে হিংসা করেছে তার বিচার শুরু হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে কবি সুভাষ থেকে আইটি সেন্টার মেট্রো চালুর জন্য চিংড়িঘাটায় ট্রাফিক ব্লক করে গার্ডার বসানোর কাজ হচ্ছে। তাই বাইপাসে চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের তলা দিয়ে যে সমস্ত যানবাহন চলাচল করে, সেগুলিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।