গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হোক, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে বড় দাবি ইমামের
আজ তক | ১৭ মে ২০২৬
গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হোক। এই দাবি করলেন নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসমি। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে এই আবেদনও জানন তিনি। গোহত্যা নিয়ে হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে বিভেদ বাড়ুক, সেটা তিনি চান না। বলেন ওই ইমাম।
তিনি জানান, সরকার গোহত্যা নিয়ে যে নির্দেশিকা জারি করেছে তা আজকের নয়। ১৯৫০ সালে এই নিয়ে আইন তৈরি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। সেই মোতাবেক, গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে। পশুদের ডাক্তার সার্টিফিকেট দেবে। আর প্রকাশ্যে গোহত্যা করা যাবে না। তৃতীয় নিয়ম, পর্দার ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ এমনভাবে কুরবানি করতে হবে যাতে অন্য কেউ বিব্রত বোধ না করে।
তারপরই মহম্মদ শফিক কাসমির সংযোজন, 'আমি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি। আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আমরা চাই, সবাই তা মানুক। এর আগে যারাই সরকার এসেছে, তারাই মুসলমানদের অপব্যবহার করেছে। মাংস খেতে দেওয়ার স্বাধীনতা দিয়ে ফায়দা লুটেছে। আমাদের এখন আইন মানা দরকার।'
ওই ইমাম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও একাধিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান। তাঁর প্রশ্ন, গরুর বয়স ১৪ কি না তা দেখার জন্য পশুর চিকিৎসরকদের সাহায্য নিতে বলা হয়েছে। সেই চিকিৎসকের ব্যবস্থা কে করে দেবে? এছাড়াও গরুর কুরবানির জায়গাও সরকারকেই ঠিক করতে হবে। এই সব সমস্যার সমাধান করলে তবেই ব্যাপারগুলি সহজ হয়ে যাবে।
এরপরই মুসলমানদের কাছে তাঁর আবেদন, 'আপনারা গো মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিন। এতে আপনাদের কোনও ক্ষতি নেই। সবথেকে বেশি লোকসান হবে হিন্দুদের। কারণ তারা তো পালন করে। গরুর দুধ দেওয়া বা চাষ করার ক্ষমতা চলে গেলে বেচে দেয় মুসলমানের হাতে। এমনিতে যে গাই গরুর দাম ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হয়, কুরবানির সময় তা ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকাতে বিক্রি হয়। এতে হিন্দুদেরই অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হয়। তারা একটা গরু বিক্রি করে চার পাঁটটা কিনতে পারে। দ্বিতীয় কথা হল, মুসলমানেরা খাসি বা ছাগল বেশি প্রতিপালন করে। ফলে এই পশুর বিক্রি বেড়ে যাবে। তাতে লাভবান হবে মুসলমানরাই।'
তিনি তথ্য দিয়ে আরও জানান,ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি গরু রপ্তানি করা হয়। সেটাও সরকারকে বন্ধ করতে হবে। গরুকে যদি জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়া হয় তাহলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। মুসলমানরা কুরবানি দিয়ে সেটা নিয়ে আপত্তি অথচ রপ্তানি বজায় থাকবে, সেটা হতে পারে না।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ কঠোর ভাবে পালনের জন্য নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের ২০১৮ সালের ৬ অগস্টের রায় এবং সে সংক্রান্ত ২০২২ সালের ৮ জুনের সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এটি প্রকাশ করা হয়েছে। আইন না মানলে ৬ মাস পর্যন্ত জেলও হতে পারে।