সরকার গড়েও জনরোষে কংগ্রেস! খাসতালুক ওয়ানড়েই রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে কটাক্ষ করে পড়ল পোস্টার
প্রতিদিন | ১৭ মে ২০২৬
ভোটে জিতে সদ্য সরকার গড়েছে কংগ্রেস। সেই কেরলেই এবার রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে পড়ল পোস্টার। তাও প্রিয়াঙ্কার লোকসভা কেন্দ্র ওয়ানড়ে কংগ্রেসের পার্টি অফিসের দরজায়। সেই পোস্টারে সাফ দাবি, কেরলের মানুষ গান্ধী ভাইবোনকে ক্ষমা করবে না। হাত শিবিরের শক্ত ঘাঁটি ওয়ানড় থেকেও রাহুলদের হারতে হবে, এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় ওই পোস্টারগুলিতে। গোটা ঘটনায় আপাতত অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ।
গত ৪ মে চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হয়েছে। তার ১০ দিনের মধ্যে সমস্ত রাজ্যে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মুখ্যমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করে পুরোদস্তুর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ব্যতিক্রম কেরল। দলীয় কোন্দল, নানা ঘাত-প্রতিঘাতে মুখ্যমন্ত্রী পদে নাম চূড়ান্তই করতে পারছিলেন না হাইকমান্ড। অবশেষে ১০ দিনের বিস্তর নাটক ও টানাপোড়েন শেষে ভি. ডি. সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। একটা সময়ে শোনা গিয়েছিল, কংগ্রেস পরিষদীয় দল কেসি বেণুগোপালের নাম প্রস্তাব করেছিল কেরলের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। কিন্তু কেরলের বিধায়কদের মতানুসারেই শেষ পর্যন্ত সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়।
যখন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে টানাপোড়েন চলছে, সেই সময়েই ওয়ানড়ের কংগ্রেস দপ্তরে এই পোস্টারগুলি সাঁটানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। হাইকমান্ডের পছন্দের বেণুগোপালকে রাহুলদের ‘ব্যাগ বওয়ার লোক’ বলেও অপমান করা হয় ওই পোস্টারগুলিতে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী করলে কেরলবাসী কংগ্রেসকে ক্ষমা করবে না। ২০১৯ সালে যেভাবে আমেঠিতে হেরেছিলেন রাহুল, সেই একই পরিণতি ওয়ানড়েও হবে। রীতিমতো হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কাকে।
সম্ভবত দলীয় কর্মীদের এই মনোভাব দেখেই বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসানো হয়নি। সম্প্রতি এই পোস্টার মারা নিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন কংগ্রেস বিধায়ক টি সিদ্দিকি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তি পোস্টার সাঁটাচ্ছেন। আপাতত তাঁকে খোঁজার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন উঠছে, বিপুল ভোটে কংগ্রেসকে জয়ী করার পরেও কেন হাত শিবিরের প্রতি এত অসন্তুোষ কেরলবাসীর?