মন্ত্রী বাছাইয়ে বাড়তি গুরুত্ব মুসলিম লিগকে! শপথের আগেও চূড়ান্ত কোন্দল কংগ্রেসের অন্দরে
প্রতিদিন | ১৭ মে ২০২৬
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর নিচুতলার কর্মীদের দাবিতে সিলমোহর দিয়ে কেরলে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী পদে সোমবারই শপথ নেবেন ভিডি সতীশন। কিন্তু তাঁর শপথের কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্তও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে চরম কোন্দল ইউডিএফ জোটের অন্দরে। শোনা যাচ্ছে, দলের সব পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে ‘রোটেশনাল মন্ত্রী’পদের সিস্টেম চাইছে হাত শিবির। তাতে দলের অন্দরেই অসন্তোষ রয়েছে।
কেরলে কংগ্রেসের অন্দরে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, দলের অধিকাংশ সিদ্ধান্তই নাকি নিচ্ছে জোট শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ। কংগ্রেস ভিডি সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী বাছায় উল্লসিত আইইউএমএল। সতীশনের নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা হতেই ইডুব্ধি জেলায় রাস্তায় নামে লিগ কর্মীরা। সেখানে স্লোগান ওঠে, কেরল ভূমে লিগই আইন ঠিক করে! সতীশনের নামেও স্লোগান ওঠে। নিশানা করা হয় রাজ্যের কয়েকটি সম্প্রদায়ের নেতাদেরও। সরাসরি নায়ার সার্ভিস সোসাইটি প্রধান সুকুমারণ নায়ার, শ্রী নারায়ণ ধর্ম পরিপালনা (এসএনডিপি) যোগম সাধারণ সম্পাদক ভেল্লাপল্লি নাটেশনকে আক্রমণ করা হয় মুসলিগ লিগের মিছিল থেকে।
পালটা দিয়েছেন নাউয়ার সার্ভিস সোসাইটির প্রধান সুকুমারণ নায়ারও। তিনি বলছেন, ভিডি সতীশনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতা নেই। কিন্তু কংগ্রেস যেভাবে মুসলিম লিগের কাছে মাথা নত করছে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। এসবের মধ্যে আবার কেরলে কংগ্রেসের মন্ত্রক বণ্টন প্রায় চূড়ান্ত। ওই মন্ত্রিসভাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে লিগ। শোনা যাচ্ছে, নতুন মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের সদস্য থাকবেন ১১ জন। আর পাঁচজন মন্ত্রী থাকবেন লিগের। অর্থাৎ মন্ত্রিসভাতেও গুরুত্বপূর্ণ লিগই।
সমস্যা রয়েছে কংগ্রেসের অন্দরের মন্ত্রক বণ্টন নিয়েও। সতীশন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় অন্য শিবির অর্থাৎ কেসি বেণুগোপাল শিবির এবং রমেশ চেন্নিথালা শিবিরের নেতাদের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার দাবি উঠছে। আবার সতীশন নিজেও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক রাখতে চান। সব মিলিয়ে জগাখিচুড়ি পরিস্থিতি। যা অবস্থা তাতে, সরকার গঠনের পরও যদি হাত শিবিরের অন্দরে আকচাআকচি চলতে থাকে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে আপাতত কংগ্রেস শিবির সেসবে মনোনিবেশ না করে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে একটি মেগা শো হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরা।