কেউ একুশের ভোটের পরে ঘরছাড়া হয়েছিল। কেউ আবার চব্বিশের লোকসভার ভোটের হিংসায় বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। হিংসা পরিস্থিতি থিতিয়ে গেলেও ভীত সন্ত্রস্তদের নিজেদের ঘরে ফিরতে গুনতে হয়েছিল মোটা টাকা! ঘটনায় স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতা মামন শেখ ও আলেফ শেখের নাম সামনে এসেছে। সরকারের পালাবদল হতেই বিজেপি কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার হিড়িক নানুরে!
বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের পর রাজনৈতিক সন্ত্রাসের জেরে বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়ে পড়েন। পরে এলাকায় ফিরতে গেলে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। কারও কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, আবার কারও কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। নানুরের কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েত ও আশপাশের এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি বিজেপির। জানা গিয়েছে, শান্তিনিকেতন থানা এলাকার অন্তত ১১ জন বিজেপি নেতা-কর্মী সম্প্রতি সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এক বিজেপি কর্মী সব্যসাচী রায় জানান, “২০২১ সালের নির্বাচনের পর বিজেপির হয়ে কাজ করার অপরাধে অনেকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় বাড়িঘর ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া থাকার পর ফেরার জন্য চাপের মুখে টাকা দিতে বাধ্য হতে হয়েছিলাম।” বিজেপির আরও অনেকে দাবি করেছেন, টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নিজের বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে তাঁদের।
এই ঘটনায় স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতা মামন শেখ ও আলেফ শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এরা দুজনই জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাসন বিধানসভা কেন্দ্রের জয়ী তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখের অনুগামী বলে পরিচিত। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা কাজল শেখ। তিনি বলেন, “২০২১ সালের সময় ওই এলাকার উপর আমার কোনও দায়িত্ব ছিল না। তখন আমি সামান্য একজন কর্মী ছিলাম। কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতে যদি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে বা কেউ জোর করে টাকা নিয়ে থাকে, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত মামন শেখ ও আলেফ শেখ এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।