পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যে ভারতের উপরেও যে ‘গভীর প্রভাব’ পড়েছে, তার মোকাবিলা করতে অতিমারি কালের মতো ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতি চালু করার ডাক দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শ কার্যকর করতে দিল্লিতে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেখা গুপ্তার সরকার। সেই মতো বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু হয়েছে। এ বার রাজধানী শহরের বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও কর্মীদের সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ করানোর পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা।
রবিবারই এই মর্মে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে দিল্লির শ্রম দপ্তর। তাতে বেসরকারি ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কাজের সময় পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছে। দিল্লির সরকারের পরামর্শ, কর্মীদের বলা হোক যাতে তাঁরা গণপরিবহণ বা পুলকার ব্যবহার করেন। খুব প্রয়োজন ছাড়া অফিসের গাড়ির ব্যবহারও কমাতে বলা হয়েছে। অফিসে মুখোমুখি বৈঠকের পরিবর্তে ভার্চুয়াল বৈঠকের পরামর্শও দিয়েছে দিল্লির সরকার। তবে স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, জল-সহ জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রকে এই নির্দেশিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘আমার ভারত, আমার যোগদান’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছে দিল্লির সরকার। সেই অভিযানেরই অঙ্গ হিসেবে দিল্লিতে জ্বালানির ব্যবহার কমানোর কথা বলা হয়েছে। রেখার সরকার জানিয়েছে, সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন সোমবারকে ‘মেট্রো দিবস’ হিসেবেই দেখা হবে। ওই দিন মন্ত্রী, সরকারি আধিকারিক এবং সরকারি কর্মীরা মেট্রো রেলে চেপে অফিস পৌঁছবেন। আবার ফিরবেনও মেট্রো রেলে চেপে। তার জন্য সরকারি কর্মচারীদের পরিবহণ খরচ দেওয়া হয়, তা-ও ১০ শতাংশ বাড়ানো হবে।
আগামী ৬ মাস পেট্রল, ডিজ়েল বা বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনাতেও নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে দিল্লির সরকার। নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বিদেশ ভ্রমণেও। সরকার জানিয়েছে, আগামী এক বছর কোনও মন্ত্রী বা সরকারি আধিকারিক বিদেশ যাত্রা করবেন না। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সরকারি অফিসের তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা হবে। উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকারও কিছু পদক্ষেপ করেছে। সেখানে সপ্তাহে অন্তত এক দিন ‘নো ভেহিকেল ডে’ পালনের কথা বলা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকেরও বলা হয়েছে গণপরিবহণ ব্যবহার করতে।