পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি সেনাপ্রধানের, মানচিত্রে থাকবেন নাকি ইতিহাসে, সিদ্ধান্ত আপনাদের
বর্তমান | ১৭ মে ২০২৬
নয়াদিল্লি: পাকিস্তান আর সন্ত্রাসবাদ সমার্থক। জঙ্গিদের জামাই আদর করে ভারতকে নিশানা বানানো তাদের পুরানো অভ্যাস। গত বছর পহেলগাঁও হামলাতেও ধরা পড়েছিল সেই একই রোগ। তবে ‘অপারেশন সিন্দুরে’র প্রথম বর্ষপূর্তির মাসেই ‘জঙ্গিপ্রেমী’ পড়শিকে দেওয়া হল কড়া সতর্কবার্তা। এবার সুর চড়ালেন স্বয়ং সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। সন্ত্রাস-রোগ সারাতে দিলেন ‘তেতো দাওয়াই’। সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি, ‘পাকিস্তান ফের হামলার চেষ্টা চালালে ভয়াবহ ফল হবে। মানচিত্রে থাকবেন নাকি ইতিহাসে, সেই সিদ্ধান্ত এবার আপনাদেরই (পাকিস্তানকেই) নিতে হবে।’ শনিবার দিল্লির মানেকশ সেন্টারে আয়োজিত ‘সেনা সংবাদ’ অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন জেনারেল দ্বিবেদী। সেনাপ্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ইসলামাবাদ ফের প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা করলে ভারতের জবাব কেমন হবে? উত্তরে পাকিস্তানকে ভূগোল থেকে নিশ্চিহ্ন করে ইতিহাসে পাঠানোর হুমকি দিলেন তিনি।
গত বছর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকেও প্রায় একই সুরে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। কচ্ছের রণের কাছে ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অঞ্চলে বহুদিন ধরে নজর ইসলামাবাদের। কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সীমান্ত অঞ্চলে পাকিস্তানি গতিবিধি নিয়ে রাজনাথ সিং তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। হুংকার ছিল, ‘পাকিস্তান বেআইনিভাবে স্যার ক্রিক দখলের চেষ্টা করলে তাদের ইতিহাস ও ভূগোল— দুটোই বদলে যাবে।’ আর এবার ভারত বিরোধী সন্ত্রাস ইস্যুতে পাকিস্তানকে সোজা ভূগোল থেকে ইতিহাসে পাঠিয়ে দেওয়ার সতর্কবার্তা দিলেন স্বয়ং সেনাপ্রধান।
ঘটনাচক্রে জেনারেল দ্বিবেদীর এই হুঁশিয়ারি এমন একটা সময় এল, যখন পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলার পক্ষে সওয়াল করছে খোদ আরএসএস। সম্প্রতি আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নিরাপত্তা’ ও ‘আত্মসম্মানে’র সঙ্গে আপস না করেই পাকিস্তানের সঙ্গে কথাবার্তার রাস্তা খোলা রাখা উচিত ভারতের। তাঁর এই অবস্থানকে আবার সমর্থন করতে দেখা গিয়েছে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ নারাভানেকে। হোসাবলের ওই মন্তব্যকে স্বাগত জানায় পাকিস্তানও। যদিও আরএসএস নেতার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনায় নামে কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবির। এমনিতেই বাণিজ্যচুক্তি ও জ্বালানি আমদানি ইস্যুতে কংগ্রেসের অভিযোগ, মোদি সরকার আমেরিকার কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে। সেই আবহেই পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে সওয়াল করায় হাত শিবিরের কটাক্ষ, আরএসএস কোনো ‘হাইপার পাওয়ারে’র হয়ে কথা বলছে না তো! তবে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই চাপানউতোরের মধ্যেই সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী সাফ জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তান ও সন্ত্রাস ইস্যুতে সেনাবাহিনীর অবস্থান বিন্দুমাত্র শিথিল হয়নি।