• ৩ বছর শাহের নজরে রাজ্য, নির্বাচনি ইস্তাহার বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গী বঙ্গ বিজেপি
    বর্তমান | ১৭ মে ২০২৬
  • রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: ২০১৭ সাল থেকেই প্রত্যক্ষভাবে বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক রাশ নিজের হাতে রেখেছিলেন অমিত শাহ। লক্ষ্য একটাই, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন। ৯ বছর পর অবশেষে সেই টার্গেট পূরণ হয়েছে। এবার নবগঠিত বিজেপি সরকারের কাজেও নজর রাখবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্তত আগামী ৩ বছর। বাংলায় প্রাক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সফল বাস্তবায়নই এখন মোদি-শাহের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেই সূত্রে বঙ্গবাসীর সার্বিক আর্থ-সামাজিক কল্যাণে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের কাজের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে থাকবে দিল্লির পর্যবেক্ষণ। সূত্রের দাবি, সম্প্রতি দিল্লিতে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেই রাজ্য পার্টির প্রধানকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৩ বছর রাজ্য সরকারের কাজে তিনি নজর রাখবেন। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, হলে তার আশু সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। শুক্রবার জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে অমিত শাহের নয়া এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শমীকবাবু। অর্থাৎ বঙ্গ বিজেপির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিষয়টি নিয়ে দিল্লির এক নেতা বলেন, প্রায় সাড়ে সাত দশক পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠন করেছি। বাম-তৃণমূল জমানায় গত ৫০ বছরে রাজ্য শিল্প-শিক্ষা-সংস্কৃতিতে পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে রাজ্য সরকারের ভূমিকা তাই নির্ণায়ক হতে চলেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভা কিংবা ভাবী মন্ত্রীদের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কার্যত নেই। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার যোগ্য সহায়কের কাজ করতে চাইছে। যে-কোনো বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বহু জনমুখী কেন্দ্রীয় প্রকল্প গত ১৫ বছরে বাংলার কার্যকর হতে দেননি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই বাধা দূর করার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় আমলা মহলকেও অমিত শাহ স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ফাইল ফেলে রাখা চলবে না। দ্রুততার সঙ্গে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সবমিলিয়ে আক্ষরিক অর্থে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলা সরকারের অভিভাবক হিসেবে ৩ বছর থাকতে চাইছেন।

    নবান্নের আমলা মহল অবশ্য এখনও বিজেপি সরকারের কাজের গতির সঙ্গে মানিয়ে উঠতে পারেনি। মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত ও মনোজ আগরওয়াল ভেঙে পড়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে ফের পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগী হয়েছেন। সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্য সরকারের কাজকর্মের খতিয়ান শুধু রাজ্য পার্টির থেকে নেবেন না। একাধিক কেন্দ্রীয় সরকারি এজেন্সিও নিয়মিত রিপোর্ট পাঠাবে। আইএএস-আইপিএস মহলের একাংশ তাঁকে প্রয়োজনীয় ইনপুট দেবে। এমনকী নতুন রাজ্য সরকারের বিবিধ প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকদের কাছে সরাসরি পৌঁছাবে শাহের নিজস্ব টিম। উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পের বাস্তব ইতিবাচক-নেতিবাচক দিক উল্লেখ করে গ্রাউন্ড রিপোর্ট পৌঁছাবে দিল্লিতে। এক্ষেত্রে মন্ত্রীদের কাজকর্মের নিয়মিত রিভিউ করবেন শাহ। মন্ত্রিসভার সদস্যদের উপরও ধারাবাহিক নজর থাকবে পার্টির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতির।
  • Link to this news (বর্তমান)