তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ, প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান সরজিৎ বিশ্বাস। শনিবার রাতে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। রবিবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজির করানো হয়েছে। যদিও ধৃতের দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। কখনও কারও কাছ থেকে অবৈধ ভাবে টাকা নেননি। বরং টাকা দিয়ে অনেক মানুষকে সাহায্য করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে সরজিতের বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসায় জড়়িত থাকারও অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূল জমানায় দীর্ঘ দিন পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন তিনি। বর্তমানে কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, সরজিতের বিরুদ্ধে দিগনগরের একাধিক কারখানা এবং কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তোলাবাজির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। তারই পদক্ষেপ হিসাবে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে।
ধৃতের দাবি, শনিবার রাত ৯টা নাগাদ তাঁর বাড়িতে ঢোকে পুলিশ। কেন তাঁকে আটক করা হচ্ছে, তার স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সরজিতের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে পুলিশকে দিয়ে তাঁকে হেনস্থা করছে বিজেপি। পুলিশ ভ্যানে বসে তিনি বলেন, “কেন গ্রেফতার করা হল, আমি নিজেই জানি না। শনিবার রাতে হঠাৎ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে। আমি দীর্ঘ সময় ধরে পঞ্চায়েত প্রধান ছিলাম। বর্তমানে কৃষি কর্মাধ্যক্ষ। আমার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। কারও থেকে কোনও দিন একটা টাকাও নিইনি। বাবা রাজনীতি করতেন। আমার নিজের ভাল ব্যবসা ছিল। রাজনীতি করব বলে ব্যবসা ছেড়েছি। এখন স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই কাজ করা হচ্ছে।”
ধৃত তৃণমূল নেতার দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, “তৃণমূলের ওই কৃষি কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের থেকে নিয়মিত তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বিজেপি সরকার গঠন করার পর শ্রমিকেরা সাহস করে অভিযোগ জানানোর জায়গায় পৌঁছেছেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।’’ বিজেপি নেতা আরও বলেন, ‘‘এত দিন তৃণমূল জমানায় পুলিশের হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল। রাজ্যে মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পুলিশ নিজের স্বাভাবিক রূপে ফিরে এসে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনও বিষয় নেই এখানে।”