• ‘তৃণমূল করার জন্য জরিমানা করা হচ্ছে’! নন্দীগ্রামে গিয়ে দাবি দোলাদের, আরও দুই জায়গায় ‘আক্রান্ত’দের পাশে প্রতিনিধিদল
    আনন্দবাজার | ১৭ মে ২০২৬
  • তৃণমূলের দাবি, রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা চলছে। সেই হিংসায় ‘আক্রান্ত’-দের পাশে দাঁড়াতে রবিবার তিন জায়গায় গেল তৃণমূলের তিন প্রতিনিধিদল। সেই তালিকায় রয়েছে নন্দীগ্রামও। রবিবার সেখানে গিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের দাবি, দল করার জন্য কর্মীদের থেকে জরিমানা চাওয়া হচ্ছে। তাঁর আঙুল বিজেপির দিকে। সমাজমাধ্যমেও ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের কথা তুলে ধরেছে তৃণমূল। তৃণমূলের একটি দল গিয়েছিল বারুইপুরে, অন্য একটি দল যায় হুগলিতে।

    রবিবার নন্দীগ্রাম, খেজুরি, পটাশপুরে যায় তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। সেই দলে ছিলেন দোলা, নাদিমুল হকেরা। দোলা বলেন, ‘‘শুধু শারীরিক অত্যাচার নয়, তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে কর্মীদের ৫০ হাজার, এক লক্ষ, দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, না দিলে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না।’’ দোলার আরও দাবি, পটাশপুরে তৃণমূল সমর্থিত পরিবারের এক মহিলা সদস্য যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। তৃণমূলের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে জানানো হয়েছে, খেজুরি ব্লক-১-এর সভাপতি শঙ্করলাল মান্নার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে।

    বারুইপুরে গিয়েছেন সুস্মিতা দেব, তন্ময় ঘোষ, উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদ। তৃণমূল সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছে, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কর্মী বিজেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যেরা আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তৃণমূলের। তৃণমূলের পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘বাংলার মানুষ দেখছে’। সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল হুগলিতে যায়। সেখানে গিয়ে ‘আক্রান্ত’-দের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা।

    রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা চলছে জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলনেত্র্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে সওয়ালও করেছিলেন। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানিপর্বে তিনি বলেন, “প্রথম বার কলকাতা হাই কোর্টে সওয়াল করছি। ১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে আমার নাম নথিভুক্ত হয়। তার পর থেকে সদস্যপদ রিনিউ করেছি। ভোটের পরে শিশু, নারী, মুসলিম কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। বিবাহিত মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতি দিন এই সব অভিযোগ আসছে। ঘর, বাড়ি লুট করছে, আগুন জ্বালাচ্ছে। পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করছে না।’’

    প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ পুলিশকে নির্দেশ দেয়, কঠোর ভাবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনও নাগরিককে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাড়ি বা দোকান থেকে তাড়ানো হলে তাঁকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূলের অভিযোগ, তার পরেও আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের কর্মীরা। বিজেপি যদিও এই অভিযোগ মানেনি। তারা জানিয়েছে, তাদের কর্মীরাও আক্রান্ত হয়েছেন।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)