রাজ্যের সাতটি জাতীয় সড়ক উন্নয়নের ভার কেন্দ্রের হাতে!
আজকাল | ১৮ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর ক্ষমতায় এসেই তৎপর নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তালিকায় নয়া সংযোজন, রাজ্যের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ককে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে হস্তান্তর। জাতীয় নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে নতুন সরকার। তারই অংশ হিসেবে রাজ্যের তরফে নয়া সিদ্ধান্ত।
শনিবার রাজ্যের মুখ্যসচিবের তরফে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কের অংশ ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এনএইচএআই) এবং ন্যাশনাল হাইওয়েজ় অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল)-এর কাছে হস্তান্তরিত করা হয়েছে। যা আগে রাজ্যের পূর্ত দফতর বা পিডব্লিউডি-র অধীনে ছিল। এ বার সেই রাস্তাগুলিই কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হল।
নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গত এক বছর ধরে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের তরফ থেকে এই সড়কগুলি হস্তান্তরের অনুরোধ করা হয়েছিল রাজ্য সরকারের কাছে। তবে বারংবার আবেদনের পরেও তাতে সাড়া দেয়নি তৎকালীন সরকার। ফলে জাতীয় সড়কগুলিতে উন্নয়নমূলক কাজ কার্যত থমকে ছিল। রাস্তা সম্প্রসারণ, সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কোনও কাজই করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যের ছাড়পত্র পেল কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। ফলে এ বার কোনও বাধা ছাড়াই দ্রুত কাজ শুরু করতে পারবে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, মোট সাতটি রাস্তার মধ্যে তিনটি উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হবে এনএইচএআই-কে। বাকি চারটি সড়ক উন্নয়নের কাজ হবে এনএইচআইডিসিএল-এর অধীনে। এনএইচএআই-কে যে রাস্তাগুলি হস্তান্তর করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে, ৩২৯.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। যা জঙ্গিপুর-ওমরপুর-কৃষ্ণনগর-বনগাঁ-বসিরহাট হয়ে ঘোজাডাঙা পর্যন্ত যায়। এছাড়া, ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক, ৩৩ নম্বর জাতীয় সড়ক যা বিহার-বাংলা সীমান্ত থেকে ফরাক্কা পর্যন্ত বিস্তৃত তারও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকবে এনএইচএআই।
অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এবং সীমান্তবর্তী এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে চারটি রাস্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনএইচআইডিসিএল-এর উপর। এর মধ্যে রয়েছে, নতুন ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ৬৬ কিলোমিটার অংশ যা সেবক সেনা ছাউনি-করোনেশন ব্রিজ-কালিম্পং-বাংলা/সিকিম সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। ৩১৭-এ জাতীয় সড়ক (হাসিমারা-জয়গাঁ থেকে ভারত-ভুটান সীমান্ত), ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক (বারাদিঘি-ময়নাগুড়ি-চ্যাংড়াবান্ধা থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত) এবং ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বা পুরনো ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক (শিলিগুড়ি দার্জিলিং মোড়-কার্শিয়াং-দার্জিলিং)।
বিশেষজ্ঞদের মত, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং পর্যটন ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। এই সাতটি সড়কের কাজ সম্পন্ন হলে সিকিম, ভুটান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে । এ ছাড়া দার্জিলিং পাহাড়, ডুয়ার্স ও সমগ্র উত্তরবঙ্গের সঙ্গে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সংযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। অন্য দিকে, মালদা এবং মুর্শিদাবাদের মধ্যে দিয়ে যে বিহার-বাংলা করিডোর গিয়েছে, তারও অনেক উন্নতি হবে । এ ছাড়া, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া থেকে শুরু করে উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙায় ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত রাস্তার আমূল উন্নতি হবে।