শুভেন্দু সবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করছেন:বৈশাখী
আজকাল | ১৮ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শোভন চ্যাটার্জি ও বৈশাখী ব্যানার্জি অত্যন্ত পরিচিতি নাম। বিভিন্ন সময়ে খবরের শিরোনামে উঠে আসেন। তাঁদের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কেও অজানা নয় কারোর। শোভন চ্যাটার্জি বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। বহুদিন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। তারপর বিজেপিতে যোগদান করেন। এরপর পুনরায় তৃণমূলে ফেরার পর এনকেডি-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছিল শোভন চ্যাটার্জি-কে তৃণমূল কংগ্রেস।
গুঞ্জন উঠেছিল ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পেতে পারেন শোভন চ্যাটার্জি। তারপর জল গড়িয়েছে অনেক দূর। পরিবর্তন হয়েছে সরকারের। ভোটের ফলে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। পালা বদলের পরই মুখ খুললেন বৈশাখী ব্যানার্জি। তিনি আজকাল ডট ইনকে জানিয়েছেন, এই ভরাডুবির কারণ।
তিনি জানিয়েছেন, "১৫ বছর আগে সাধারণ মানুষই ক্ষমতায় এনেছিল তৃণমূল সরকারকে৷ কেন হঠাৎ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিল সেই কারণটা আগে বিশ্লেষণ করতে হবে। মানুষ ভুল বুঝে সরে গিয়েছে। এটা রাতারাতি হয় না। আমরা সকলে তৃণমূল স্তরে কাজ করি কিন্তু যারা নেতা তাদের কাজ, জীবনচর্চা আগে বিশ্লেষণ করা দরকার। যে ঔদ্ধত্য আচার-আচরণ। মা মাটি স্লোগান নিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা সেখান থেকে সরে গিয়ে যদি শুধুমাত্র সমাজ মাধ্যমে থাকে তাহলে এই ফলই স্বাভাবিক। সবসময় পরিবারতন্ত্র নিয়ে আসা হয়েছে। মমতা ব্যানার্জি-কে বলার মত জায়গা নেই। কিন্তু উত্তরবঙ্গের কয়েকটি ঘটনা নিয়ে অভিষেক ব্যানার্জি-কে বলেছিলাম যে মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছে। এটা প্রত্যেকেরই মাথায় রাখা উচিত মানুষের জন্যই আমরা ক্ষমতায় আসি আবার সেই মানুষই সরিয়ে দিতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "শোভনও বারবার বলতো পুরনো কর্মীদের ঘরে বসে যেতে হচ্ছে। নির্বাচনের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও স্ট্রিট মিটিংয়েও তাকে ডাকা হয়নি। অনেকেই ভেবেছিল এবার টিকিট দেওয়া হবে। যেসব আন্টি সোশ্যালদের ঘরে ঢুকিয়েছিল, যাদের তোলাবাজি বন্ধ করেছিল, দেখা গিয়েছে তারাই ধীরে ধীরে দলের সম্পদ হয়ে উঠেছে। তারা প্রার্থীদের সঙ্গে প্রচারে বেরোলো। এসব দেখেই মুখ ফিরিয়েছে বেহালাবাসী। শোভন জানত বেহালা কী অবস্থায় দাঁড়িয়ে। দলের মধ্যে আবেগ শূন্য হয়ে গিয়েছে। ব্যক্তি জীবনকে প্রাধান্য দেয়। কিন্তু বিজেপি সেটা দেয় না।"
একই সঙ্গে বৈশাখী ব্যানার্জি বলেন, " টেলিভিশনে যখন প্রার্থী তালিকা দেখলাম, অবাক হয়েছিলাম। তৃণমূলের মূল ইউএসপি ছিল আবেগ। আমি তিনজন মুখ্যমন্ত্রী কে আমার জীবনে দেখেছি। জ্যোতি বাবু কে যখন পেয়েছি তখন রাজনীতি বুঝতাম না। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মমতা ব্যানার্জি ও শুভেন্দু অধিকারী-কে ইন অ্যাকশন দেখছি। বুদ্ধ বাবুর পরে শুভেন্দু অধিকারী-কে দেখলাম যিনি সবার মুখ্যমন্ত্রীর হওয়ার চেষ্টা করছেন। দলীয় মুখ্যমন্ত্রী হওয়াটা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকারক। আমার দলের লোকেরা কোনও অন্যায় করতে পারেনা। আমি এই দলের ছিলাম এই দলের সংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম মহিলা শিক্ষিকাদের কুমন্তব্য করেছে। তার প্রতিবাদ করেছিলাম বলে আমি শত্রু দলের। এতদিন বলিনি কারণ বাড়ি থেকে বেরোলে মার্ডার হতাম গুন্ডাবাহিনীর হাতে। দশ দিন নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। আমি এটাই চাইবো বাংলা নতুন দিশা দেখাক এই নতুন সরকার।"