ভারতের মন্দিরে যখের ধন! জিডিপিতে চিন-আমেরিকাকেও টেক্কা দেশের ‘টেম্পল ইকোনমি’র
প্রতিদিন | ১৮ মে ২০২৬
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার (ফরেক্স) বাঁচাতে আগামী এক বছর দেশবাসীকে সোনা কেনায় লাগাম পরানোর আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আসলে অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত মহার্ঘ হলুদ ধাতুটি। সরকারি নথি বলছে— এই মুহূর্তে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভাণ্ডারে সঞ্চিত সোনার পরিমাণ ৮৮০ টন। মজার কথা হল, এর কয়েক গুণ বেশি সোনা রয়েছে ভারতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য মন্দিরের সিন্দুগুলিতে। সেই পরিমাণ এতটাই বেশি যে চিন-আমেরিকার অর্থনীতিকেও নেহাত গরিব মনে হবে। দেখে নেওয়া যাক চক্ষু ছানাবড়া করা সেই পরিসংখ্যান।
গৃহস্থের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে হাজার হাজার টন সোনা
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের একটি তথ্য বলছে, ভারতে সাধারণ নাগরিক এবং মন্দিরগুলি মিলিয়ে সোনার পরিমাণ ৩০ হাজার টনের বেশি। মন্দিরগুলির সিন্দুকে গচ্ছিত সোনার পরিমাণ ৪-৫ হাজার টন। অন্যদিকে গৃহস্থের কাছে রয়েছে ২৫ হাজার টন সোনা। সেখানে আমেরিকার সোনার পরিমাণ ৮৯৩১ টন। এর থেকে আন্দাজ করা যায় স্বর্ণ ভাণ্ডারের হিসাবে আমেরিকার চেয়ে কতটা এগিয়ে ভারত। সমস্যা হল এই সোনা দেশের অর্থনীতির বাইরে, যার কোনও হিসাব সরকারের কাছে নেই। জার্নাল অফ এশিয়ান স্টাডিজ-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বার্টন স্টেইন বলেছেন, ভারতের মন্দিরগুলো একটি প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি। দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ভারতের মন্দির অর্থনীতি
একাধিক সূত্রের দাবি, কেরলের পদ্মনাভ স্বামী মন্দিরে সবচেয়ে বেশি ১৩০০ টান সোনা রয়েছে। এর পর অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি মন্দিরের সিন্দুকে সঞ্চিত সোনার পরিমাণ ১১,৩২৯ কিলো। শিরিডি সাঁই মন্দির রয়েছে ৩৮০ কিলো সোনা। মীনাক্ষী মন্দিরে রয়েছে ৩০০ কিলো সোনা। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সিন্দুকে গচ্ছিত সোনার পরিমাণ ১৫০ কিলো। এছাড়াও ভারতের ছোট-বড় বহু মন্দিরে কিলো কিলো সোনা রয়েছে বলেই অনুমান। সব মিলিয়ে এই পরিমাণ ৪-৫ হাজার টন হতে পারে।
মন্দিরের সোনা যদি দেশের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়?
মন্দিরের এই সোনা যদি কোনওভাবে আরবিআইয়ের আওতায় থাকা সরকারি কোষাগারে চলে আসে তবে দেশের সোনার ভাণ্ডার হবে ৪৮৮০ টনের। সাধারণ নাগরিকেরাও যদি সঞ্চিত সোনা দান করে দেন, তবে তা পৌঁছবে ৩০ হাজার টনে। বলা বাহুল্য, সেক্ষেত্রে আমেরিক-চিনের মতো বৃহত্তম আর্থিক শক্তিকেও পিছনে ফেলে দেবে ভারতের জিডিপি। বাস্তবে তেমনটা সম্ভব?
দেশ, রাজ্যের সংকটে পাশে দাঁড়িয়েছে মন্দিরগুলি
১৯৬৫ সালে দেশে গভীর আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তিরুপতি মন্দির ভারত সরকারকে ১২৫ কিলোগ্রাম সোনা দান করেছিল। যা কাজে লেগেছিল। অতি সম্প্রতি ২০২৫ সালে তামিলনাড়ুর ২১টি মন্দির মোট ১,০০০ কিলোগ্রাম সোনা রাজ্য সরকারকে দান করেছিল। এই সোনা থেকে তামিলনাড়ু সরকার বার্ষিক কয়েক কোটি টাকা সুদ পায়। মাঝে ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইবিজেএ) আহ্বান জানায় যে মন্দির ট্রাস্টগুলোর হাতে থাকা হাজার হাজার টন সোনার মধ্যে অন্তত ১,০০০ টন সোনাকে ‘স্বর্ণ নগদীকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় মূলধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসা হোক। এর ফলে সোনার আমদানি কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত থাকবে। যা বাঁচাতে সম্প্রতি সোনা কেনায় লাগাম টানার অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।