নিট প্রশ্নফাঁসে অবসাদ, ‘আত্মহত্যা’ চার পড়ুয়ার, ‘সিস্টেমেটিক মার্ডার’ বলছে কংগ্রেস
প্রতিদিন | ১৮ মে ২০২৬
নিটে প্রশ্নফাঁসের জেরে অবসাদ। দেশজুড়ে আত্মঘাতী অন্তত চার পড়ুয়া। অন্তত বিরোধীদের তেমনটাই অভিযোগ। কংগ্রেসের দাবি, এ পর্যন্ত নিটে প্রশ্নফাঁসের জেরে অবসাদে পড়ুয়ার সংখ্যা চার। হাত শিবির অবশ্য এই মৃত্যুগুলিকে শুধু আত্মহত্যা বলতে নারাজ। কংগ্রেস বলছে, এগুলি আসলে ‘সিস্টেমেটিক মার্ডার।’
নিট বাতিলের জেরে আত্মহত্যার সর্বশেষ খবর মিলেছে গোয়া থেকে। গোয়ার ১৭ বছরের নাবালক সিদ্ধার্থ হেগড়েও নিটে প্রশ্নফাঁসের জেরেই আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। সিদ্ধার্থের দেহের কাছে একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গিয়েছে। ওই সুইসাইড নোটে সে লিখেছে, “গত দু’বছর কঠোর পরিশ্রমের পর আমি পরীক্ষা দিয়েছি। আর পরীক্ষা দেওয়ার মতো শক্তি আমার নেই।” সিদ্ধার্থ প্রথম নয়, এর আগে দেশের একাধিক রাজ্য থেকে নিট বাতিলের জেরে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। ২০ বছরের অংশিকা পাণ্ডে, ২১ বছরের ঋত্বিক মিশ্র, ২২ বছরের প্রদীপ মেঘওয়াল, প্রত্যেকেই চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অবসাদে তাঁরা প্রত্যেকেই আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ।
এই মৃতদের তালিকা তুলে ধরে সরকারের কাছে জবাব চাইছে কংগ্রেস। হাত শিবিরের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে দাবি করা হয়েছে, এগুলি আসলে শুধু আত্মহত্যা বা সাধারণ মৃত্যু নয়। এগুলো সিস্টেমেটিক মার্ডার। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক খুন।
উল্লেখ্য, নিটের প্রশ্নফাঁস বিতর্ক নিয়ে কংগ্রেস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে প্রথম থেকে সুর চড়িয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। রাজস্থানে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে সেটাও তিনি প্রকাশ্যে আনেন। এক্স হ্যান্ডেলে গোটা বিষয়টি নিয়ে আবারও ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাহুল লেখেন, ‘২০২৪ সালে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল, পরীক্ষা বাতিল হয়নি। মন্ত্রীও পদত্যাগ করেননি। কমিটি গঠন হল। আবার এবছর প্রশ্ন ফাঁস হল। সিবিআই তদন্ত হচ্ছে, আবার একটা কমিটি গঠন হবে। কিন্তু মিস্টার মোদি, দেশবাসী আপনাকে কিছু প্রশ্ন করছে। কেন বারবার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে? প্রশ্নপত্র নিয়ে আপনি কেন সবসময় চুপ করে থাকেন? বারবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও কেন আপনি শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করছেন না?’ আপাতত কংগ্রেসের দাবি, এই ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে শিক্ষামন্ত্রীকে।