• পশুহত্যা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিভ্রান্তি! হস্তক্ষেপ দাবি করে শুভেন্দুকে চিঠি অধীরের
    প্রতিদিন | ১৮ মে ২০২৬
  • আগামী সপ্তাহে কোরবানির ইদ হতে পারে। কিন্তু তার আগে যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে গবাদি পশু হত্যা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে বিজেপি সরকার। এহেন নির্দেশিকা ঘিরেই জনমানসে তৈরি হয়েছে একাধিক বিভ্রান্তি। বিশেষ করে সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে কাজ করছে বিভিন্ন ‘অস্থিরতা’। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। যেখানে মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

    বাংলার মসনদে বিজেপির সরকার। সরকার গঠনের পরেই ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে গবাদি পশুর মাংস কাটা ও বিক্রিতে বেশ কিছু নিয়ম কার্যকর করেছে। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশু হত্যা দেওয়া যাবে না। এবার থেকে তা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মূলত গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুরের মতো গবাদি পশু বলির ক্ষেত্রে একগুচ্ছ শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

    এরপরেই সংখ্যালঘু মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের বড় অংশজুড়ে সংখ্যালঘু মানুষের বসবাস। এহেন নির্দেশিকা ঘিরে সেখানকার মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। এরপরেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা চিঠিতে অধীর লিখছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের “পশু জবাই নির্দেশিকা” সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে বিশেষত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় বিভ্রান্তি এবং অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’ তাঁর দাবি, ‘পশ্চিমবঙ্গ বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি ও বহু ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক মিলনভূমি। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।’

    এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কংগ্রেস নেতার প্রস্তাব, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে দেওয়া হোক, যেখানে মানুষ তাঁদের প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবেন।’ এতে অযথা বিভ্রান্তি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও বজায় থাকবে বলে মনে করেন প্রাক্তন সাংসদ। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে কোনও কিছু না জানানো হলেও ইতিমধ্যে অধীর চৌধুরীর চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করা হয়েছে বলেই নবান্ন সূত্রে খবর।

    অন্যদিকে রাজ্যের এহেন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে এসইউসিআইও। সাধারণ সম্পাদক প্রভাস ঘোষ এক বার্তায় জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার পশু হত্যা সংক্রান্ত যে বিধিনিষেধ জারি করেছে, তা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচারে হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়। এর ফলে তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে আসছেন, তা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হবে বলে দাবি তাঁর। ফলত এহেন বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারে দাবি জানিয়েছেন প্রভাস ঘোষ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)