ভুয়ো নোটিস পাঠিয়ে ‘ডিজিটাল গ্রেপ্তারির নামে প্রতারণা! এবার সিবিআইয়ের নতুন দাওয়াই ‘অভয়’
প্রতিদিন | ১৮ মে ২০২৬
নতুন ‘মোডাস অপারেন্ডি’তে সিবিআইয়ের ভুয়ো নোটিস পাঠিয়ে ‘ডিজিটাল গ্রেপ্তারি’। সাইবার জালিয়াতদের রুখতে এবার সিবিআইয়ের দাওয়াই ‘অভয়’। সিবিআইয়ের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি এই ‘হেল্পবট’-এর মাধ্যমেই সহজে বোঝা যাবে সেই নোটিস আসল, না কি নকল।
কখনও বা সিবিআই, আবার কখনও বা মুম্বই পুলিশ অথবা দিল্লি পুলিশ পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, বিশেষ করে প্রবীণদের ফোন করে টাকা হাতায় সাইবার জালিয়াতরা। এরকম বহু অভিযোগ দায়ের হয়েছে কলকাতা-সহ এই রাজ্যেও। বেশ কিছু ক্ষেত্রে সিবিআই বা পুলিশের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বিচারক বলেও পরিচয় দেয় সাইবার জালিয়াতরা। এমনও দেখা গিয়েছে যে, ভিডিও কল করার সময় বিচারক সেজে জালিয়াতরা ডিজিটাল গ্রেপ্তারিতে ‘সিলমোহর’ দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু লাগাতার সচেতনতার ফলে অনেকেই সাইবার জালিয়াতদের ফোন এড়িয়ে চলেন। তাই পদ্ধতি পালটো ভুয়ো সিবিআই নোটিস পাঠাতে শুরু করেছে জালিয়াতরা। মূলত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হচ্ছে ভুয়ো নোটিস। যে নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে, তার ডিপিতে থাকছে সিবিআইয়ের লোগো। হোয়াটস অ্যাপে যোগাযোগের জন্য নম্বরও দেওয়া থাকছে। ভুয়ো নোটিসে বলা থাকছে, ওই ব্যক্তি বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, এমন প্রমাণ মিলেছে। তাঁকে সিবিআইয়ের অফিসে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে। জেরা করবেন সিবিআই আধিকারিকরা। স্বভাবতই এই নোটিস পেয়ে অনেকেই ভয় পেয়ে যোগাযোগের নম্বরে ফোন করেন। তখনই সাইবার জালিয়াত নিজেকে সিবিআই কর্তা বলে পরিচয় দিয়ে বলে, তাঁকে আপাতত ডিজিটাল গ্রেপ্তারি করা হচ্ছে। তবে তিনি পর্যাপ্ত টাকা দিলে সিবিআইয়ের মামলা থেকে অব্যহতি পেতে পারেন। অনেকেই ভয় পেয়ে জালিয়াতদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান।
সিবিআইয়ের সূত্র জানিয়েছে, অনেকেই বুঝতে পারছেন না, সিবিআই তাঁকে আদৌ কোনও নোটিস পাঠিয়েছে কি না। ওই নোটিস আসল, না কি নকল, তা-ও বুঝতে পারছেন না অনেকে। অতি সহজেই যাতে সেই নোটিস আসল, না কি নকল বোঝা যায়, তার জন্য সিবিআই চালু করল ‘অভয়’। সিবিআইয়ের ওয়েবসাইটে গেলেই দেখা যাবে ‘অভয়’-এর লোগো। সেখানে ক্লিক করলেই কী করতে হবে, তা জানিয়ে দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর মোবাইল নম্বর সিবিআইকে জানাতে হবে। সেই মোবাইলে মোবাইলে আসবে ওটিপি। এর পর যে সিবিআই নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেটি আপলোড করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে চ্যাটবট ‘অভয়’ কিছুক্ষণের মধ্যেই জানিয়ে দেবে, সেটি আসল, না কি সাইবার জালিয়াতদের পাঠানো ভুয়া নোটিস। একই সঙ্গে সিবিআইয়ের পরামর্শ, ওই ব্যক্তি যেন এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ইতিমধে্য ডিজিটাল গ্রেপ্তারির ক্ষেত্রে সাইবার জালিয়াতদের চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিআই।