তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে গোছা গোছা ভোটার কার্ড আর জব কার্ড উদ্ধারের অভিযোগ উঠল গড়বেতায়। শুধু তাই নয়, জমির দলিলও পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার ছোটতারা গ্রামের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পরে ভোটার, জব কার্ড এবং জমির কাগজপত্রগুলি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে এই নিয়ে মুখ খুলতে চাননি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
ছোটতারা গ্রামের একটি একতলা বাড়িতে পার্টি অফিস খুলেছিল তৃণমূল। পুরো বাড়িটাই সবুজ রং করা। উপরে টালির চাল। তবে ফলপ্রকাশের পর থেকেই তা বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয় বিজেপি নেতাদের। একই কথা জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাও। গত দু’সপ্তাহ ধরে পার্টি অফিসের দরজায় তালা ঝুলতে দেখেছেন তাঁরাও। কিন্তু অভিযোগ, এদিন সেই তালা খুলে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন কয়েক জন। তখনই বিষয়টা নজরে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, এ দিন দুপুরে একটি টোটো এসে দাঁড়ায় পার্টি অফিসের সামনে। ভেতর থেকে কিছু জিনিস বের করে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে কয়েকজন। সন্দেহ হওয়ার টোটো আটকান স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। গোটা কার্যালয়ে তল্লাশি শুরু করেন তাঁরা। অভিযোগ, সেই সময়ে আলমারি খুলতেই বেরিয়ে আসে গোছা গোছা ভোটার কার্ড, জব কার্ড আর জমির কাগজপত্র। খবর চাউর হতেই ভিড় জমে যায়।
তৃণমূলের পার্টি অফিসে কেনএই সব কাগজপত্র রাখা ছিল? এই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রীতিমতো ভিড় জমে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ভোটার কার্ড, জব কার্ড এবং জমির কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যান তাঁরা। তার পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এই ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন গড়বেতার নতুন বিধায়ক বিমান মাহাতো। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল যে ভুয়ো ভোটার কার্ড আর জব কার্ড তৈরি করে ১০০ দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছে, এটা তারই প্রমাণ। ধীরে ধীরে সব দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসবে। দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’ তবে এই নিয়ে মুখ খুলতে চাননি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কেউই।