মাথা অর্ধেক কামানো। ডানদিক পুরো ন্যাড়া। গোঁফও তাই। বাঁ দিকের অর্ধেকটা নেই। কামিয়ে ফেলেছেন। ওই ভাবে হলুদ পাঞ্জাবি পরে বিরস বদনে বসে রয়েছেন বীরভূমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডল। না সত্যি সত্যি মাথার চুল, গোঁফ কামাননি তিনি। অনুব্রতর একটি ছবি এডিট করে বড় পোস্টার বানিয়েছেন টোটো চালক সুকেশ চক্রবর্তী। তার পরে নিজের টোটোর পিছনে সেটা লাগিয়ে গোটা বোলপুরে ঘুরছেন তিনি। কারণটা কী? এর জন্য এক মাস পিছিয়ে যেতে হবে।
সাংবাদিকের মুখ থেকে প্রশ্নটা শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সেদিন ছিল ২৩ এপ্রিল। প্রথম দফার ভোট চলছে। তখনই কি না বিজেপি ২০০ পার করার স্বপ্ন দেখছে! চোখ থেকে চশমাটা খুলে সাংবাদিকের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের সুরে বলেছিলেন, ‘তা হলে আর কী! বিজেপি ২০০টা সিট পেলে মাথা হাফ কামিয়ে বোলপুরে ঘুরব।’
২০০টা নয়, ২০৭টা আসন পেয়েছে বিজেপি। তার পর থেকেই অনুব্রতর সেই মন্তব্য ফিরে এসেছে বীরভূমের রাজনীতিতে। তাঁর ‘অর্ধেক মাথা কামানো’ এডিটেড ছবি ঘুরতে শুরু করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই ছবিটাকেই পোস্টার বানিয়ে গোটা শহর চষে বেড়াচ্ছেন সুকেশ। ছবির নীচে লেখা, ‘সাংবাদিককে আপনি বলেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাথার চুল আর গোঁফ কামিয়ে ফেলব। সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে, এই দৃশ্য দেখব কবে?’
সুকেশের টোটো দেখলেই আগু-পিছু ভিড়। কেউ ছবি তুলছেন। কেউ সেলফি। কেউ কেউ সুকেশকেও ডেকে নিচ্ছেন। অনুব্রতর পোস্টার মাঝ খানে রেখে ফ্ল্যাশ ঝলসে উঠছে। যেন এমন রঙ্গ আগে দেখেনি বোলপুরবাসী। আর সুকেশ হাসছেন, ‘এত বড় নেতা। তিনি ভোটের আগে যখন বলেছিলেন, নিশ্চয় কথা রাখবেন। সেটাই বোলপুরবাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছি।’ অনুব্রতর সঙ্গে তাঁর ‘ব্যক্তিগত শত্রুতাও’ অবশ্য রয়েছে। নিজেই সেই কথা বললেন সুকেশ। তাঁরর অভিযোগ, ‘আমাকে মিথ্যা কেসে ফাঁসিয়ে দিয়েছিলেন। জেল খেটেছি। তখন থেকেই ভেবেছিলাম একদিন এর প্রতিবাদ করব।’
‘অর্ধেক মাথা আর গোঁফ কামানো পোস্টার’ নিয়ে অনুব্রত মণ্ডলকে ফোন করা হয়েছিল। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফোন সুইচড অফ ছিল। তবে এমন কাণ্ডের নিন্দাই করলেন বীরভূমের জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র জামশেদ আলি খান। সরাসরি বলে দিলেন, ‘কর্মীদের চাঙ্গা রাখার জন্য অনেক নেতাই অনেক রকমের কথা বলেন। কিন্তু এখন সেগুলোকে তুলে আনার কোনও অর্থ হয় না।’ সাধারণ মানুষ যাতে এই ধরনের কাজ করা থেকে বিরত থাকেন, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি। বিজেপি অবশ্য এর মধ্যে ঢুকতে রাজি নয়। বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলের কথায়, ‘সাধারণ মানুষ ১৫টা বছর ভয়ে ভয়ে জীবন কাটিয়েছে। এখন প্রতিবাদ করছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।’
ভোটের প্রতিশ্রুতি রাজনীতিতে কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলে। আগামী দিনেও চলবে এতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে বোলপুরের বাতাসে এখন ঘুরপাক খাচ্ছেএকটাই প্রশ্ন— অনুব্রত কি সত্যিই কথা রাখবেন?