এই সময়: ভোট দিতে তাঁরা অনেকেই উড়ে এসেছিলেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। কেউ এসেছিলেন ইউরোপ থেকে, কেউ আমেরিকা থেকে। কেউ ভিন রাজ্য থেকেও।
ভোট দিয়ে তাঁরা ফিরেও গিয়েছেন নিজের নিজের ঠিকনায়। এ বার সেই ‘ঘরের ছেলে–মেয়েদের’ পাকাপাকি ভাবে ঘরে ফেরার আহ্বান জানালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, শিল্পায়ন–ই ভবিষ্যত। তাই যাঁরা বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে ‘স্টার্ট আপ’ শুরু করেছেন, তাঁদের এ বার পশ্চিমবঙ্গে ফিরে নিজেদের ব্যবসা শুরু করার সময় এসেছে বলে শমীকের দাবি। পাশাপাশি অনাবাসী বাঙালি তথা ভারতীয়দেরও বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান তিনি। বিনিময়ে তাঁদের ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি’ পরিস্থিতি তৈরি করে দেওয়ার গ্যারান্টি দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। শিল্পমহলের একাংশের আশা, শমীকের চাহিদা মতো বিনিয়োগ এলে এ শহর থেকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ইউরোপ–আমেরিকার সরাসরি ফ্লাইটও চালু হয়ে যেতে পারে। তাতে বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে।
তৃণমূল জামানায় বাংলার মেধা, বাংলার পুঁজি বাইরে চলে যাচ্ছে বলে এতদিন অাক্ষেপ করতেন বিজেপি নেতারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ১৫ বছরে কেন বড় বিনিয়োগ বাংলায় আনতে পারেনি, সেই প্রশ্ন তুলেও লাগাতার তৃণমূলকে বিঁধেছেন তাঁরা। এখন বাংলার মসনদে বিজেপি। তাই পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক দুরবস্থা ঘোচানোই বর্তমানে বিজেপির লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য পূরণে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে কোনও কসুর রাখবে না, সেটা রবিবার ঠারেঠোরে আবার বুঝিয়ে দিয়েছেন শমীক।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় আগামী ২১ তারিখ পুনর্নির্বাচন। রবিবার সেখানে ভোট প্রচারে গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। ওই সভা থেকে অনাবাসী ভারতীয় এবং বাঙালিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শিল্পায়ন ছাড়া পথ নেই। শিল্পায়নই বাংলার ভবিষ্যত গড়বে। যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে স্টার্ট আপ করেছেন, তাঁরা ফিরে আসুন। এখানে ব্যবসা করুন। অনাবাসী ভারতীয়দের বলছি, আপনারা আসুন। আপনারা এ রাজ্যে বহিরাগত নন।’ শমীকের সংযোজন, ‘আপনাদের মেধা আছে, পরিকল্পনা আছে, অর্থ আছে। পশ্চিমবঙ্গে আসুন। আমরা ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি পরিস্থিতি তৈরি করে দেবো।’
বঙ্গ–বিজেপির দাবি, গত ১৫ বছরে দেড় হাজারের বেশি কোম্পানি বাংলা ছেড়ে ভিন রাজ্যে চলে গিয়েছে। তার জন্য তৃণমূলের তোলাবাজি সংস্কৃতি এবং সিন্ডিকেটরাজকেই দায়ী করেন শমীকরা। ক্ষমতায় এসে বিজেপি তাই বাংলায় নতুন বিনিয়োগ নিয়ে আসতে চাইছে। তার জন্য শিল্পপতিদের ভরসা আদায় করার প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরের দিন থেকেই তিনি যে ভাবে রাজ্যে আইনের শাসন ফেরানোয় ফোকাস করেছেন, তা অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছে বণিকমহলও।
রবিবার ফলতার নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যোগ্য সঙ্গত করলেন শমীক। তাঁরও স্পষ্ট বার্তা, বাংলাকে লগ্নিবান্ধব করে তোলার জন্য যা করার সব করা হবে। ওই মঞ্চ থেকে তিনি বার্তা দেন শিল্পপতিদেরও। শমীকের কথায়, ‘সব শিল্পপতিদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা এগিয়ে আসুন। বাংলায় বিনিয়োগ করুন।’ তৃণমূল জমানায় শিল্পপতিরা কতটা বাংলা বিমূখ হয়েছেন, তা বোঝাতে শমীকের সংযোজন, ‘পশ্চিবঙ্গের এক জন বাঙালি শিল্পপতি বিজন নাগ গোয়াতে কারখানা তৈরি করেছেন। ওড়িশায় কারখানা তৈরি করেছেন। এখন অসমে জমি খুঁজছেন। তাঁদের কাছে অাহ্বান জানাচ্ছি, ফিরে আসুন। ঘরের ছেলে ঘরে আসুন। আমাদের জমি আছে, আমাদের নদী–সাগর আছে। দক্ষ শ্রমিকও আছে।’
সম্প্রতি বণিকসভার বৈঠকে গিয়েও শমীক শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘আপনারা নিশ্চিন্তে বাংলায় বিনিয়োগ করুন। কোনও রাজনৈতিক দল আপনাদের কাছে টাকা চাইতে আসবে না।’ শিগগিরই বাংলায় নতুন জমি–নীতি তৈরি হবে বলে বিনিয়োগকারীদের ক্ষমতায় আসার পরেই আশ্বস্ত করেছিলেন শমীক। তৃণমূল জমানায় রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতির কী শোচনীয় দশা হয়েছে, তা বোঝাতে গিয়ে তিনি এ দিন ফলতায় বলেন, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২২৮টি কারখানার মধ্যে মাত্র ৩১টি কারখানা জীবিত আছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিচয় এখন পরিযায়ী শ্রমিকদের জেলা। এর পরিবর্তন করতে হবে।’