• ‘ছেলের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন’, চন্দ্রনাথের পারলৌকিক কাজে হাজির শুভেন্দু, আবেগে ভাসলেন মা
    এই সময় | ১৮ মে ২০২৬
  • এই সময়: রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা। পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের কুলুপ গ্রামে চন্দ্রনাথ রথের বাড়ির দোরগোড়ায় থামল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়।

    তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী, আপ্ত সহায়কের নৃশংস খুনের পরে এই প্রথম চন্দ্রনাথের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে গাড়ির মধ্যে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথকে। সে দিন রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু–সহ দলের শীর্ষ নেতা–নেত্রীরা। বাড়িতে এই প্রথম। এ দিন চন্দ্রনাথের বাড়িতে প্রায় পনেরো মিনিট ধরে মূলত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    পরে হাসিরানি বলেন, ‘উনি (শুভেন্দু) আমার ছেলের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। এখনও আমার ছেলেকে মনে রেখেছেন। বাড়ি পর্যন্ত এসেছেন। আমাদের বলেছেন এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হবে। শুভেন্দুবাবু নাকি আগেই আমার ছেলেকে নিরাপত্তা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু ও নিজের প্রতি অবহেলা করেছিল, সেই নিরাপত্তা নেয়নি।’ তদন্তের বিষয়ে পরিবারের আস্থা রয়েছে বলেও জানান মা। তাঁর কথায়, ‘আমরা বিচার চেয়েছি। উনি এখন মুখ্যমন্ত্রী, নিশ্চয়ই বিচার দেবেন। সিবিআই তদন্ত করছে।’ কারও নাম না করে সংবাদমাধ্যমের কাছে চন্দ্রনাথের মায়ের অভিযোগ, ‘হয়তো ভবানীপুরের ভোটে পরাজয়টা মানতে পারেননি মাননীয়া, তাই এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে আমি শুধু চাই, যারা আমার ছেলের জীবন কেড়ে নিয়েছে, তাদের কঠোরতম শাস্তি হোক।’

    রবিবার সকাল থেকে কাঁথির বাড়িতেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বিকেলের পরে বেরিয়ে চণ্ডীপুরে চন্দ্রনাথের বাড়ি ঘুরে পৌঁছন কোলাঘাটে। সেখানে অতিথি নিবাসে কিছুক্ষণ কাটিয়ে রাতে পৌঁছে যান কলকাতা।

    শনিবার কলকাতা থেকে রওনা হয়ে প্রথমে পৌঁছন নন্দীগ্রামে। যা তাঁর খাসতালুক বলেই পরিচিত। এ বার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও জিতে এসেছেন শুভেন্দু। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে ওই কেন্দ্রেরই বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। শনিবার রাতে নন্দীগ্রামে পৌঁছে নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন সেখানে তিন–চার মাসের মধ্যে আবার নির্বাচন হবে।

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম পা রাখলেন সেখানে। রেয়াপাড়ায় বিধায়ক কার্যালয়ে বসলেন বৈঠকে। প্রথমে প্রশাসনিক বৈঠক। পরে সাংগঠনিক মিটিং। শনিবার সন্ধে আটটা আটত্রিশ মিনিটে নন্দীগ্রামে ঢুকে রাত প্রায় সাড়ে দশটা পর্যন্ত বৈঠক সেরে চলে যান কাঁথি।

    তাঁর জায়গায় নন্দীগ্রাম থেকে কে প্রার্থী হবেন তা চূড়ান্ত হয়নি। তবে, যেই হোক না কেন, দলের সংগঠনকে যে আরও মজবুত করা দরকার তা মনে করছেন শুভেন্দু। শনিবারের সাংগঠনিক বৈঠকে ছিলেন বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রলয় পাল। রবিবার তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামে তিন–চার মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। সেই মতো সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করার পরামর্শ দিয়েছেন। সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে মাথায় রেখে নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকার পাঁচটি মণ্ডলের দায়িত্ব পাঁচ নেতাকে দেওয়া হয়েছে।’ ওই বৈঠকে সৌমেন্দু ছাড়াও ছিলেন দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক অরূপ দাস, রামনগরের বিধায়ক শেখর মণ্ডল, ভগবানপুরের বিধায়ক শান্তনু প্রামানিক, পটাশপুরের বিধায়ক তপন মাইতি, তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল, সদস্য অঞ্জন ভারতী। তাঁরাই জানিয়েছেন, এই বৈঠকে সমস্ত মণ্ডল কমিটি থেকে বুথ কমিটি পর্যন্ত নিবিড় জনসংযোগ বাড়ানোর দিকেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বার নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকার মণ্ডল কমিটি এবং বুথ কমিটি নিয়ে দফায় দফায় বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক চলবে বলে জানা গিয়েছে।

    সাংগঠনিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রশাসনিক মিটিংয়েও এলাকার উন্নয়নের কাজে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে শুভেন্দু। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার এবং পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা–সহ অন্যান্য বিধায়ক, বিডিওদের সঙ্গে এ দিন রেয়াপাড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক করেন। জেলাশাসক বলেন, ‘বিধানসভা নির্বাচনের জন্য থমকে থাকা প্রকল্পগুলি পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সামনে বর্ষা। তার আগে যত দ্রুত সম্ভব তিনি কাজ সম্পূর্ণ করতে বলেছেন। সেই মতো প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে।’

  • Link to this news (এই সময়)