সংবাদদাতা, বালুরঘাট ও তপন: গভীর রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপনের বিস্তীর্ণ এলাকা। জাতীয় সড়ক থেকে রাজ্য সড়ক, এমনকি একাধিক গ্রামীণ রাস্তার উপর উপড়ে পড়ে বড়ো বড়ো গাছ। বহু জায়গায় ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি। ছিঁড়ে যায় তার। বিভিন্ন গ্রামে উড়ে গিয়েছে বাড়ির টিনের চাল। ঝড়ের জেরে রবিবার সকাল পর্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জনজীবন। তপনের পাশাপাশি গঙ্গারামপুর ও বালুরঘাট ব্লকের বেশ কিছু এলাকায় ঝড়ের দাপট ছিল। সকাল থেকে প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার কর্মীরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে নেমে পড়েন। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা সূত্রে খবর, তিনশোর বেশি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। বহু জায়গায় তার ছিঁড়ে পড়েছে। ফলে রবিবার রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন তপনের বহু গ্রাম।
দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মণ্যম টি জানান, জেলার মধ্যে তপনে সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সেখানে বিদ্যুৎ দপ্তর কাজ করছে। জেলায় চাষের কী কী ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে হতাহতের কোনো খবর নেই।
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার বালুরঘাটের রিজিওনাল ম্যানেজার সৌভিক সরকার বলেন, ভোর থেকেই আমাদের কর্মীরা কাজে নেমে পড়েছেন। প্রায় ৩০০ জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি এবং তার ছিঁড়ে পড়েছে। আজকের মধ্যে সব জায়গায় বিদ্যুতের পরিষেবা স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আমাদের কর্মীরা কাজ করছেন।
বালুরঘাট মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষক কেন্দ্র সূত্রে খবর, শনিবার রাতে ৫৮ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝড় হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৩.২ মিলিমিটার। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয় তপনের রামপুর সংলগ্ন ১৪ মাইল এলাকায়। জাতীয় সড়কের উপর বিশাল গাছ পড়ে যাওয়ায় রাতেই যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কাটার যন্ত্রের সাহায্যে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
লস্করহাট থেকে তপন এবং তপন থেকে ভিকাহার যাওয়ার রাজ্য সড়কের একাধিক জায়গাতেও গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। ফলে রবিবার সকালে চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। বহু জায়গায় যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগান। পরে প্রশাসনের কর্মীরা পৌঁছন। লস্করহাট এলাকায় আটকে পড়েন মিহির বিশ্বাস নামে এক যাত্রী। তিনি বলেন, রাস্তায় বড়ো বড়ো গাছ পড়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রাই গাছ সরানোর চেষ্টা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ বিশ্বাসের অভিযোগ, ভোর থেকেই এলাকার মানুষ নিজেরাই গাছ সরানোর কাজে নেমে পড়েছিলেন। প্রশাসন পৌঁছতে পৌঁছতে বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়ে যায়। • নিজস্ব চিত্র।