ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদে এবার নয়া অনিয়মের হদিশ। অভিযোগ, খাতায়-কলমে স্কুল শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের অফিসে বসে বছরের পর বছর মাইনে নিয়েছেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বহু শিক্ষক। রাজ্যে পালাবদল হতেই এনিয়ে সরব হতে শুরু করেছেন শিক্ষকদের অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, এমনিতেই জেলায় সামগ্রিকভাবে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষক কম। তার উপর পূর্বতন সরকারের আমলে অনেক শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে যেতেন না। ডিপিএসসি’তে বসেই দিন কাটিয়ে দিতেন তাঁরা। অনেকে আবার শিক্ষাদপ্তরের সার্কেল অফিসে ‘ঘাঁটি’ গেড়েছিলেন। জানতে চাইলে জবাব মিলত, এসআই অফিস কিংবা ডিপিএসসি’তে কর্মীর সংখ্যা কম। সেকারণে ওই শিক্ষকদের দিয়ে সেখানে অফিসের কাজ করানো হয়। যদিও শিক্ষকরা স্কুলে পড়ানো বাদ দিয়ে ডিপিএসসি’তে বসে কেন কাজ করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অতীতে বহুবার সরব হন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সদস্যরা। তবে তৃণমূল সরকারের আমলে তাঁদের আপত্তিতে কোনোরকম কান দেওয়া হয়নি বলে দাবি এবিপিটিএ’র জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝা’র।
অভিযোগ, সারপ্লাস অ্যাডজাস্টমেন্টের নামে গ্রামের স্কুল ফাঁকা করে শহরে বদলি করে নিয়ে আসা হয়েছে বহু শিক্ষককে। এক্ষেত্রে শিক্ষাদপ্তরের গাইড লাইন ঠিকমতো মানা হয়নি। মাথার উপর প্রভাবশালীদের হাত থাকায় শহরের স্কুলে বদলি হয়ে এসেও তাঁদের অনেককে আবার বিদ্যালয়ে পড়াতে হয়নি। দিনের পর দিন তাঁরা অফিসের কাজের নামে ডিপিএসসি’তে বসে থেকেই মাস মাইনে পেয়েছেন। আর এসবের পিছনে ডিপিএসসি’র টার্মিনেটেড চেয়ারম্যান লৈক্ষ্যমোহন রায়ের হাত ছিল বলে অভিযোগ। এনিয়ে জানতে রবিবার বিকেলে ফোন করা হলে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। শুধু বলেন, আমি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে রয়েছি। এখন এসব নিয়ে কথা বলতে পারব না।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায় অবশ্য জানিয়েছেন, শিক্ষকরা স্কুলে পড়াবেন, এটাই হওয়ার কথা। কিন্তু ডিপিএসসি ও এসআই অফিসে কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। সেকারণে শিক্ষকদের স্বার্থেই শিক্ষকদের দিয়ে সেখানে কাজ করাতে হয়েছে। কর্মীর ঘাটতির বিষয়টি পূর্বতন সরকারের শিক্ষাদপ্তরকে বারবার জানানো হয়েছিল। বর্তমান রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলে আমাদের আশা।
রাজ্য সরকারের নির্দেশে ডিপিএসসি’র চেয়ারম্যান পদ থেকে টার্মিনেটেড হওয়ার পরও অফিসে এসে সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে ব্যাক ডেটে প্রচুর বিলে সই করার অভিযোগ উঠেছে লৈক্ষ্যমোহনের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ ও ডিআইয়ের উপস্থিতিতে তাঁর সই করা সমস্ত বিল ও ফাইলপত্র সিল করা হয়। এনিয়ে ডিআই বলেন, বিষয়টি শিক্ষাদপ্তরকে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনও সবটাই জানে। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি দীপঙ্কর বিশ্বাসের দাবি, যেহেতু অফিসগুলিতে কর্মী নেই, সেকারণে শিক্ষকরা সেখানে কাজ করে দিতেন। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের রাজ্যের যুগ্ম সম্পাদিকা কাকলি মণ্ডল বলেন, ডিপিএসসি ঘুঘুরবাসায় পরিণত হয়েছিল।