• গেট পাস নিয়ে ট্রাক মালিক ও বণিক সংগঠনের মধ্যে কাজিয়া
    বর্তমান | ১৮ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সীমান্তের বাণিজ্যে গেট পাস নিয়ে হিলির ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (হেক্কা) মধ্যে কাজিয়া তুঙ্গে। হেক্কার গেট পাসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ট্রাক মালিকদের সংগঠনটি। গেট পাসের নামে তোলা আদায়ের অভিযোগ হেক্কার বিরুদ্ধে। এনিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের এবং বিতর্ক শুরু হতেই গেট পাসের বিনিময়ে টাকা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হল। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে গেট পাস বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে  জানালেন হেক্কার সদস্যরা। মমতা সরকারের আমলে সুবিধা পোর্টালের মাধ্যমে যে স্লট বুকিং চালু হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গেট পাস তোলা হিসেবে বিবেচিত হলে স্লট বুকিংও একধরনের তোলা আদায়। অবিলম্বে স্লট বুকিংও বন্ধ হোক।

    হেক্কার মুখপাত্র কাজল সরকার বলেন, আমাদের নামে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা তোলা তুলি না। বাণিজ্যের সুবিধার জন্যই গেট পাস প্রদান করে একধরনের পরিচয়পত্র দিয়ে থাকি আমরা। সেই অর্থ দিয়ে অনেক সামাজিক কাজও করি। যেহেতু প্রশাসনের নির্দেশ রয়েছে, তাই আমরা গেট পাস তুলে দিচ্ছি। প্রয়োজন হলে আমরা নিজেরাই বিনামূল্যে দেব। একই সঙ্গে হেক্কার সদস্যদের প্রশ্ন, সুবিধা পোর্টালের মাধ্যমে স্লট বুকিং করে হাজার হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়াও বন্ধ করা হোক। আমরা যদি তোলা তুলি, তাহলে এটাও এক ধরনের তোলা।  এবিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মণ্যম টি বলেন, আগে থেকেই সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে স্লট বুকিং করা হয়। এনিয়ে এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ আসেনি। এলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। হিলি ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক সাহার দাবি, নতুন সরকার তোলা বন্ধের জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে। তারপরেও গেট পাসের নামে আমাদের থেকে টাকা তোলা হচ্ছে। আমরা গেট পাস চাই না। গেট পাস ছাড়াও আমাদের লরি বাংলাদেশ যাচ্ছে। গেট পাস বন্ধ করার বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। পুলিশ প্রশাসন আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। এদিকে হেক্কার দাবি, স্লট বুকিং বন্ধ করতে হবে। কারণ, স্লট বুকিংয়ের নামে একেকটি লরি থেকে ছয় থেকে নয় হাজার টাকা নেওয়া হয়।

    প্রশাসন সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুষ্ঠুভাবে চলার জন্য তৃণমূল সরকারের আমলে সুবিধা পোর্টালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করে স্লট বুকিং হতো। একেকটি গাড়ির জন্য ৬ থেকে ৯ হাজার টাকা জমা দেওয়ার পরই স্লট বুকিং হতো। তারপরই ওপারে যেত পণ্যবাহী লরি। স্লট বুকিংও এবার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 
  • Link to this news (বর্তমান)