নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পাড়ায় সমাধানের বোর্ড লাগানো আছে। কিন্তু তৈরি হয়নি রাস্তা কিংবা নিকাশি নালা। এরই প্রতিবাদে রবিবার বিক্ষোভ দেখান জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জমিদারপাড়ার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এলাকাটি পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান বেণুরঞ্জন সরকারের বুথের অধীন। অথচ এখানে পাড়ায় সমাধানের নামে টাকা বরাদ্দ হলেও কোনো কাজ হয়নি। শুধুমাত্র বোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছেন ঠিকাদার। এনিয়ে ঠিকাদার মিঠুন সরকারের সাফাই, কাজ হবে বলেই বোর্ড রেখে আসা হয়েছিল। কিন্তু কাজ করতে বাধা পেয়েছি।
পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধানের অবশ্য দাবি, আমার এলাকায় পাড়ায় সমাধানে কী কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল, তা জানা নেই। কারণ বিডিও অফিস থেকেই সবটা হয়েছে। কিন্তু তা বলে নিজের এলাকায় উন্নয়নের কী কাজ হচ্ছে, তার খোঁজ রাখবেন না উপপ্রধান? জবাবে তাঁর মন্তব্য, আমি উপপ্রধান হতে পারি, কিন্তু সত্যি বলতে এতদিন আমার কাজ ছিল শুধু অফিসে যাওয়া আর আসা। আর প্রধান অনিতা রাউতের কাজ ছিল, শুধু সই করা। পঞ্চায়েত চলত অন্য একজনের কথায়। কে তিনি? বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর বিস্ফোরক দাবি ওই দলেরই পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের। রবিবার নিজের বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, পঞ্চায়েত চলত তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের কথায়। কিন্তু কেন? তার অবশ্য উত্তর নেই উপপ্রধান বেণুরঞ্জন সরকারের কাছে। বললেন, আমাকে কি কম অপমান করা হয়েছে? নামেই উপপ্রধান। কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি আমাকে। আমার এলাকায় কী কাজ হবে, তা আমাকে জানানোর প্রয়োজনটুকুও বোধ করেননি।
বেণুরঞ্জনের দাবি, প্রধানের টেবিলে একটা লিস্ট ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই লিস্টে কোন বুথে কাজের জন্য কাকে ফোন করতে হবে কিংবা কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা লেখা ছিল। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের অনেক পঞ্চায়েত সদস্যকে এড়িয়ে কৃষ্ণর বাহিনীর নাম ছিল ওই লিস্টে। তাঁদের তুষ্ট করতে না পারলে পঞ্চায়েতে কোনো কাজ হত না।
বিজেপি কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হতেই পলাতক কৃষ্ণ। এনিয়ে পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের মন্তব্য, চোখের সামনে তিস্তার বালি পাচার, জমি দখল— অনেক কিছুই দেখেছি। সবটা দেখেও প্রতিবাদ করার জায়গা ছিল না। দলের অন্দরে এসব নিয়ে বললেও কেউ শুনতেন না। রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। আমি চাই, এসবের এবার উপযুক্ত তদন্ত হোক।
নাম না করে কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অনিতা রাউত। তাঁর মন্তব্য, এটা ঠিক, প্রধান হলেও আমাকে অন্যের কথাতেই চলতে হত। কখনওই নিজের মতো করে পঞ্চায়েত পরিচালনা করতে পারিনি। পাহাড়পুর পঞ্চায়েতে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের আমলে কোন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কত খরচ হয়েছে তা জানতে চেয়ে আরটিআই করেছেন পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা বিজেপির চিত্র রায়। তিনি বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে পাহাড়পুর পঞ্চায়েতে পুকুর চুরি হয়েছে। আরটিআই করে সবটা জানতে চেয়েছি। এখনও উত্তর পাইনি।