কলেজের গভর্নিং বডি ভেঙে দেওয়ায় বন্ধ ব্যাঙ্কের লেনদেন, অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে থেকে দৈনন্দিন খরচে সমস্যা
বর্তমান | ১৮ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রাজ্যে পালাবদলের পর সব কলেজে গভর্নিং বডি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মনোনীত প্রশাসকদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ১২মে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে এনিয়ে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এখনও নতুন গভর্নিং বডি গঠন করা হয়নি। প্রশাসকও নিয়োগ করা হয়নি। এই অবস্থায় কলেজগুলিতে ব্যাঙ্কের লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ। কারণ, ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার সময় কলেজের প্রিন্সিপাল এবং গভর্নিং বডির সভাপতি দু’জনের সই লাগে। জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট করা আছে। এখন গভর্নিং বডি না থাকায় অ্যাকাউন্ট থেকে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ।
ময়না কলেজে জানুয়ারি মাস থেকে অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে হয়নি। কলেজের নিজস্ব ফান্ড থেকে তাঁদের মাইনে দেওয়া হয়। কিন্তু, মাইনে দেওয়ার মতো নিজস্ব ফান্ডে টাকা সবসময় থাকে না। তাই দু’-তিন মাস অন্তর অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে দেওয়া হয়। গত জানুয়ারি মাস থেকে ওই কলেজের অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে আটকে রয়েছে। ভোটের প্রাক্কালে প্রাক্তন বিধায়ক সংগ্রাম দোলইকে সরিয়ে ময়না পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি রঞ্জিত বলকে গভর্নিং বডির সভাপতি করেছিল রাজ্য। পালাবদলের পর ময়না কলেজের গভর্নিং বডিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে সবধরনের লেনদেন বন্ধ। কলেজের প্রিন্সিপাল দিলীপকুমার পণ্ডা বলেন, জানুয়ারি মাস থেকে অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে বন্ধ। এখন গভর্নিং বডি ভেঙে দেওয়ায় ব্যাঙ্কে লেনদেন বন্ধ আছে।
কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন সুপ্রকাশ গিরি। তিনি কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যান। সরকারি নির্দেশিকার জেরে তিনিও গভর্নিং বডির সভাপতি পদ থেকে অপসারিত। যেকারণে কাঁথি পিকে কলেজ কর্তৃপক্ষও নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনোরকম লেনদেন করতে পারছে না। রবিবার এনিয়ে ওই কলেজের প্রিন্সিপাল অমিতকুমার দে বলেন, আমাদের কলেজের অস্থায়ী কর্মীরা এপ্রিল মাসের মাইনে পেয়ে গিয়েছেন। তবে, দৈনন্দিন কাজকর্ম চালানোর যে খরচ সেটা এখন নিজেদের পকেট থেকেই করতে হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বিল করে টাকা অ্যাডজাস্ট করা হবে।
মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর কলেজের অধ্যক্ষ স্বপনকুমার মিশ্র বলেন, ১২মে গোটা রাজ্যে সব কলেজের গভর্নিং বডি ভেঙে দিয়েছে রাজ্য। একইসঙ্গে অবসরের পরও যাঁরা এক্সটেনশনে ছিলেন তাঁরা আর কাজ করতে পারবেন না বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। আমাদের কলেজেও লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ আছে। অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে পেতে সমস্যা হয়নি। দৈনন্দিন কাজের খরচ আপাতত নিজেরা চালিয়ে নিচ্ছি।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বেশকিছু কলেজে অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে আটকে রয়েছে। অস্থায়ী কর্মীরা মার্চ, এপ্রিল মাসের মাইনে পাননি। অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে তাঁদের মাইনে দেওয়া হয়। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক কলেজে ছাত্র নেতারা অস্থায়ী কর্মী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে তাঁদের মাইনে দেওয়া হয়। তাঁদের অনেকেই এখন কাজ খোয়ানোর আশঙ্কা করছেন। একইসঙ্গে বেশকিছু জায়গায় ৬০ বছরের পরও কিছু কর্মী কলেজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মূলত নেতাদের সুপারিশে এটা হচ্ছিল। সেইসব কর্মীর চাকরি বাতিল করে দিয়েছে রাজ্য।