• কাটোয়ায় দুই বন্ধুর সামনেই কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে খুন, চম্পট দুষ্কৃতীদের
    বর্তমান | ১৮ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার মুল্টি গ্রামে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কলেজ পড়ুয়াকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করল দুষ্কৃতীরা। শনিবার রাতে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাতেই এসডিপিও এর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে দেহ তুলে হাসপাতালে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য। মৃতের নাম সাহিদ মির্দা (২১)। তিনি কাটোয়া কলেজে বিএ তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া। ওই কলেজ পড়ুয়াকে নৃশংসভাবে খুন করল কারা তাদের সন্ধান পায়নি পুলিশ। তবে ওই কলেজ পড়ুয়ার দুই বন্ধু প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় তাদের আটক করেছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাহিদ প্রতিদিনের মত গ্রামেরই দুই বন্ধুর সঙ্গে রাতে দিঘির পাড়ে গিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে পাঁচশ মিটার দূরে ওই দিঘি। সেখানে ঘাটে দুই বন্ধুর সঙ্গে বসে গল্প করছিলেন। রাত ন’টা নাগাদ সাহিদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। ধারাল অস্ত্র দিয়ে তার গলা, ঘাড়ে কোপ মারা হয়। বাকি দুই বন্ধু ছুটে গ্রামের লোকজন ডেকে আনে। সাহিদের বাড়ির লোকজনও ছুটে আসেন। তারপরেই পুলিশ আসে। কী কারণে ওই কলেজ পড়ুয়াকে এমন নৃশংস খুন হতে হল, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন তদন্তকারীরা।

    কাটোয়ার এসডিপিও কাশীনাথ মিস্ত্রী বলেন, আমরা সবদিক খতিয়ে দেখছি। মুল্টি গ্রামের দক্ষিনপাড়ার বাসিন্দা পেশায় কৃষক  ইনামূল মির্দা ও কহিনূর বিবির ছেলে সাহিদ সেনাবাহিনীতে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখতে দেশের হয়ে কাজ করার। তাঁর বোন একাদশ  শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। এদিন সাহিদের বাবা ইনামূল হক বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। তবুও কেন যে তাকে খুন হতে হল বুঝতে পারছি না। তবে ছেলে মোবাইলে গেম খেলত। তা নিয়ে ওর কিছু বন্ধুর সঙ্গে ঝামেলাও হয়। 

    এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় দিঘির বাঁধানো ঘাটে চার চাপ রক্ত পড়ে রয়েছে। একটি গ্যাস লাইট ও দু’জোড়া জুতো পড়ে রয়েছে। পুলিশ জায়গাটিকে ঘিরে রেখেছে। ফরেন্সিক টিম এসে নমুনা সংগ্রহ করার কথা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাহিদ সহ পাড়ার কয়েকজনের সঙ্গে  সন্ধ্যা হলেই দিঘির পাড়ে বসে গরমকালে। এদিন  তাঁর চিৎকার শুনে সবাই বেরিয়ে এসে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। সাহিদের কাকা রমজান মির্দা বলেন, ভাইপোকে কারা মারল তা নিয়ে তদন্ত করে দেখা হোক। ওই দুই বন্ধুর আচরণ আমাদেরও সন্দেহ লাগছে। কারণ ওদের চোখের সামনে ভাইপোকে পিছন থেকে আক্রমণ করল। অথচ ওরা বলছে নাকি চিনতে পারিনি। তাহলে কারা ভাইপোকে মারল পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। 

    মৃত কলেজ পড়ুয়ার কাকার ছেলে মাসুদ মির্দা কাটোয়া থানায় লিখিতভাবে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে যে দুই বন্ধু ছিল, তারাও বুঝতে পারেনি। ওরা বলছে কালো পোশাক পড়ে এসে কুপিয়ে দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে চম্পট দিয়েছে আততায়ীরা।

    এদিন মৃতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গোটা পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে৷ মা কহিনুর বিবি শোকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। প্রতিবেশীরা তাঁদের বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)