• শিশুর মৃত্যুতে চিকিৎসককে হেনস্তার প্রতিবাদ ডাক্তারদের, তদন্তে স্বাস্থ্যদপ্তর, ছুটিতে পাঠানো হল বিএমওএইচকে
    বর্তমান | ১৮ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, মানবাজার: পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকদের উপর হামলার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ডাক্তাররা। সাপে কাটা শিশুর মৃত্যুর ঘটনার জেরে শনিবার কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে পুঞ্চা হাসপাতাল থেকে সরিয়ে জেলার টেলি মেডিসিন হাবে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিএমওএইচ নবকুমার বিশ্বাসকেও ছুটিতে পাঠিয়ে তাঁর পরিবর্তে সত্যব্রত মুখোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রবিবার স্বাস্থ্য ভবন থেকে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে এসে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে। রবিবার পুরুলিয়া দেবেন মাহাত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৃত শিশুর ময়নাতদন্ত করা হয়। ভিডিওগ্রাফি করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    চিকিৎসকদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওয়েস্টবেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম। চিকিৎসকদের উপর হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তার তদন্তের জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে চিকিৎসকদের উপর শারীরিক আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন মহিলা চিকিৎসককে চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

    প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে সাপের কামড়ানোয় হাতিহাড় গ্রামের বছর সাতের শিশু অরূপ গোপকে পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি এবং সময়মতো অ্যান্টিভেনাম না দেওয়ার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণের পরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনাম দেওয়া হয়েছিল। চেষ্টা সত্ত্বেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। চিকিৎসকদের উপর চড়াও হন অনেকে। মহিলা চিকিৎসককে চুলের মুঠি ধরে হেনস্তা করা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি সেইদিনই জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ওইদিন রিপোর্ট রাজ্যে পাঠানো হয় বলে সূত্রের খবর। এরপর রবিবার রাজ্য স্বাস্থ্যভবন থেকে দুই সদস্যের একটি দল পুঞ্চা হাসপাতালে পৌঁছায়। তাঁরা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। শিশুর মৃত্যু ঘিরে একদিকে যেমন চিকিৎসা ব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তেমনই সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পরই পুঞ্চা হাসপাতাল চত্বরে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)