ভোটের প্রতিশ্রুতি পূরণে হাতে বেলচা, দুর্গাপুরে রাস্তা সংস্কারে বিজেপি কর্মীরা
বর্তমান | ১৮ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে পড়ত দুর্গাপুরের মায়াবাজার সংলগ্ন নিউ মার্কেট এলাকার রাস্তা। খানাখন্দে রাস্তা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। নিত্যদিন দুর্ঘটনা ও দুর্ভোগ ছিল নিত্যসঙ্গী। অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের বেহাল রাস্তা সংস্কারে সরাসরি মাঠে নামল বিজেপি নেতৃত্ব।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাই রবিবার সকাল থেকেই তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হন দলের কর্মী-সমর্থকরা। জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের নেতৃত্বে হাতে বেলচা, ছাই ও রাবিশ নিয়ে রাস্তায় নামেন বিজেপি কর্মীরা। রাস্তার বড় বড় গর্তে ছাই ও বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী ফেলে আপাতত যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
সুমন্ত মণ্ডল তীব্র ভাষায় দুর্গাপুর নগর নিগমের সমালোচনা করে বলেন, ডিএমসি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। মানুষের চরম দুর্ভোগ সত্ত্বেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল কার্যত দুঃসাধ্য হয়ে উঠত। বিধায়কের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে গর্ত ভরাট করছি, যাতে সাধারণ মানুষ অন্তত সাময়িক স্বস্তি পান। দুর্গাপুর নগর নিগমের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই রাস্তার সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
দুর্গাপুর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন পুরসভা নির্বাচন না হওয়ায় কার্যত প্রশাসনিক নজরদারিহীন অবস্থায় পড়ে ছিল এলাকা। স্থানীয় দোকানদারদের দাবি, খারাপ রাস্তার জেরে ব্যবসাতেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী উত্তম মাহাত বলেন, বহুবার ডিএমসিকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। জল-কাদা আর ভাঙা রাস্তার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতেই চাইতেন না। আজ, অন্তত কিছুটা স্বস্তি মিলল। অন্যদিকে, বিজেপির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেই মন্তব্য করেছেন জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, নতুন সরকার সদ্য ক্ষমতায় এসেছে। তাদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। শুরু থেকেই নেতিবাচক মনোভাব ঠিক নয়।