ক্যাম্পাসে প্রতিপক্ষ এবিভিপি, স্বদেশিতে মজেছে এসএফআই, চে-ফিদেলের বদলে নেতাজি-রবীন্দ্রনাথ!
বর্তমান | ১৮ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরই রাজ্যজুড়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এসএফআই এবং আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি জেগে উঠেছে। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে-ক্যাম্পাসে এখন এবিভিপি এবং এসএফআইয়ের পতাকা বাঁধার ধুম পড়েছে। এবিভিপি রাষ্ট্রবাদের কথা বলে। এমত অবস্থায় এসএফআই তাদের পোস্টারে চে গেভারা, ফিদেল কাস্ত্রোর ছবি রাখছে না। বদলে সেই জায়গা নিয়েছেন স্বদেশি মনীষীরা। কেন?
এসএফআই দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এসেছে। সেই দাবিতে পথে নেমে ছাত্র নেতা সুদীপ্ত গুপ্তকে মৃত্যবরণও করতে হয়েছে। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই আশায় বুক বাঁধছে, এবার যদি ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। তারা মনে করছে, কলেজ নির্বাচনে এবার এসএফআইয়ের প্রতিপক্ষ হবে এবিভিপি। এই নতুন প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে লড়াই করবে বামেরা? ইতিমধ্যেই এসএফআই রাজ্য কমিটির তরফে বিভিন্ন জেলায় সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। নেতৃত্বের ফোন নম্বর দিয়ে পোস্টার তৈরি হয়েছে। সেই পোস্টারেই স্থান পেয়েছে স্বদেশি মনীষীদের ছবি। নেতাজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামমোহন রায়, স্বামী বিবেকানন্দ, সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, সুকান্ত ভট্টাচার্য, নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া, কল্পনা দত্ত প্রমুখের ছবি রয়েছে। আরএসএসের সঙ্গে লড়াই করার জন্যই কি এই ছবি বদল? বিরোধীরা বামেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে তারা নাকি স্বদেশি মনীষীদের চেয়ে বিদেশিদের নিয়ে বেশি মাতামাতি করে। এই ছবি পরিবর্তন কি সেই অস্বস্তি ঘোচাতেই? এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে অবশ্য ‘পরিবর্তন’ মানতে নারাজ। তিনি বলছেন, ‘বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, সমাজ সংস্কার আন্দোলন, স্বাধীনতার লড়াই নিয়ে চিরকালীন চর্চার পরিসরকে বাড়ানোর চেষ্টা করেছে এসএফআই। এটা নতুন কিছু নয়!’
তাহলে নতুন কী? দেবাঞ্জন বলছেন, ‘নতুন এটাই, বাংলার মাটিতে যে আরএসএস-এবিভিপি বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে, তারাই এখন উন্মত্ত তাণ্ডবে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে মনীষী-বিপ্লবীদের ছবিতে আবির লাগাচ্ছে। সাংস্কৃতিক বুলডোজারের এই তাণ্ডব থেকে বাংলার চিরন্তন সমাজ, সংস্কৃতি রক্ষা করতে লড়ছে এসএফআই।’