• রাতভর হাওড়া স্টেশনের বাইরে চলল বুলডোজার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ১৫০টিরও বেশি অস্থায়ী দোকান
    বর্তমান | ১৮ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া স্টেশন চত্বরে শনিবার গভীর রাতে রেল পুলিশ ও হাওড়া সিটি পুলিশের যৌথ উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ১৫০টিরও বেশি অস্থায়ী দোকান। বুলডোজ়ার চালিয়ে স্টেশনের বাইরে রাস্তার ধারে থাকা বেআইনি খাবারের দোকান, ডালা, ঠেলা ও বিভিন্ন অস্থায়ী স্টল সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে এদিন সকালে সম্পূর্ণ অন্য চিত্র দেখা গেল হাওড়া স্টেশনের বাইরে। যেখানে নিত্যদিন যাত্রীদের ভিড়, ঠেলাঠেলি আর ঘিঞ্জি পরিস্থিতি দেখা যেত, সেখানে এদিন অনেকটাই ফাঁকা রাস্তা ও স্বস্তির ছবি চোখে পড়ে। চারদিকে পড়ে থাকতে দেখা যায় ভাঙা টিন, কাঠবোর্ড ও দোকানের বিভিন্ন সামগ্রী। এলাকায় লাগাতার নজরদারি চালাতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে।

    রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই হাওড়া স্টেশনের বাইরে ফুটপাত ও রাস্তার বড়ো অংশ দখল করে ব্যবসা চলছিল। এর জেরে স্টেশনে ঢোকা ও বেরনোর ক্ষেত্রে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হত নিত্যযাত্রীদের। বিশেষ করে লাগেজ নিয়ে যাতায়াত করাই মুশকিলের হয়ে পড়েছিল। এই নিয়ে বহুবার রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বহু অভিযোগ জমা পড়ে। তার ভিত্তিতেই শুক্রবার দোকানদারদের সরে যাওয়ার নোটিস দেয় রেল পুলিশ। অভিযোগ, অধিকাংশ দোকানি সেই নির্দেশ না মানায় শনিবার রাতে অভিযান চালানো হয়। শনিবার রাতে স্টেশন চত্বরের ভিড় কিছুটা কমতেই বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে এলাকায় যায় হাওড়া সিটি পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন আরপিএফের আধিকারিকরাও। এরপর বুলডোজ়ার দিয়ে একের পর এক দোকান ভাঙা শুরু হয়। কোথাও কোথাও হকারদের সঙ্গে পুলিশের বচসা হয়। যদিও রেল পুলিশের দাবি, আগেই সবাইকে ফুটপাত খালি করতে বলা হয়েছিল।

    উত্তর হাওড়ার বিধায়ক বিজেপির উমেশ রাই বলেন, ‘বছরের পর বছর হাওড়া স্টেশন চত্বর বেআইনি হকারদের দখলে ছিল। হকারদের থেকে নিয়মিত তোলা তুলত তৃণমূলের নেতারা। বিজেপি ক্ষমতায় আসায় অবশেষে স্টেশন চত্বর দখলমুক্ত হল।’ অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই রাতারাতি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। প্রায় ৭০ বছর ধরে হাওড়া স্টেশনের বাইরে তাঁরা অস্থায়ীভাবে ব্যবসা করে আসছেন। অধিকাংশই বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ ভিন রাজ্যের বাসিন্দা। কেউ চা-সিগারেট, কেউ ফাস্ট ফুড, আবার কেউ খেলনা বা ট্রলিব্যাগ বিক্রি করতেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রাকেশ সোনকর ও গুড্ডু চৌপালরা বলেন, ‘ঠাকুরদার সময় থেকে আমরা এখানে ব্যবসা করছি। কোনো সরকারের আমলেই কাগজ দেওয়া হয়নি। ট্রেড ইউনিয়ন আমাদের ব্যবসা করার অনুমতি দিত। এখন আচমকা উচ্ছেদ হওয়ায় পরিবার নিয়ে পথে বসার পরিস্থিতি। রেল অন্তত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুক।’ তবে উচ্ছেদের পর যাতায়াতের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ায় খুশি যাত্রীরা।
  • Link to this news (বর্তমান)