পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির জয়, তিন বছর ধরেই ১০০ বিঘা জমিতে বন্ধ জল, সমবায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারকেশ্বরের চাকদহ গ্রামে বিতর্ক
বর্তমান | ১৮ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর ব্লকের আস্তাড়া-দত্তপুর পঞ্চায়েতের চাকদহ গ্রামে সমবায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাষের জল পাচ্ছেন না চাষিরা। অভিযোগ, ২০২৩ সালে এই গ্রাম থেকে পঞ্চায়েতে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী। তারপর থেকেই প্রায় ১০০ বিঘা চাষের জমিতে জল দেওয়া বন্ধ করেছিল সমবায়।
আস্তাড়া-দত্তপুর পঞ্চায়েতের চাকদহ গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট সদস্য সংখ্যা ১৪। এর মধ্যে ১৬০ নং বুথের চাকদহ গ্রামে বিজেপি জয়লাভ করে। বিজেপি সদস্য শ্রীকান্ত রায়ের অভিযোগ, গত পঞ্চায়েত ভোটে এই এলাকায় বিজেপি জয়লাভ করার পর থেকে একাধিক সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা। সমবায় এই গ্রামে চাষের জল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারি আবাস যোজনার জন্য টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ করলে গ্রামবাসীদের মারধরের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। ওই পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, গত ৯ মাস আমাকে এক টাকাও ভাতা দেয়নি। জলজীবন মিশনের পাইপ পৌঁছালেও বেশিরভাগ বাড়িতে জল আসেনি। চাকদহ পশ্চিমপাড়ায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানীয় জলের পাম্প দিয়ে কিছু বাড়ি জল পেত। তাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক রতন ও পলাশ ঘোষ বলেন, এক বছর চাষের জন্য সমবায়কে জলকর দিতে হতো বিঘা প্রতি প্রায় ১৩০০ টাকা। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই বুথে বিজেপি জয়লাভ করার পর থেকেই চাষের জল সহ একাধিক সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছি আমরা। বর্তমানে আলুচাষের অন্য জায়গা থেকে জল কিনতে হচ্ছিল। তারজন্য অতিরিক্ত ১৩০০ টাকা গুনতে হয়েছে আমাদের। এছাড়াও তিল সহ অন্যান্য চাষ করলে আলাদা জলকর নেওয়া হতো। সব মিলিয়ে চাষের জলের জন্য বছরে প্রায় ২৫০০ টাকা খরচ হতো বিঘা প্রতি।
এই বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধান পলাশ লোহার বলেন, চাষের জলের বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ আমাকে এ বিষয়ে অভিযোগও করেননি। সমবায়ের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলব। ওই বুথে বিজেপি গতবার জিতলেও কেউ বলতে পারবে না, চাকদহ গ্রামে উন্নয়নের কাজ হয়নি। পঞ্চায়েত সদস্যের ভাতা কী কারণে বন্ধ হয়েছে, তা জানতে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
দত্তপুর সমবায় সমিতির সম্পাদক শংকর ঘোষ বলেন, আগে ওই এলাকার সমস্ত চাষি জল পেতেন। জলস্তর নেমে যাওয়ায় নতুন পাম্প বসাতে হবে। যতদূর জানি, ১৫-২০ বিঘা জমিতে জল দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। নতুন পাম্প বসানোর ক্ষেত্রে প্রথমে জমির সমস্যা ছিল। এক বছর আগে পাম্পের জন্য বিদ্যুতের আবেদন করা হয়েছে। কার জমির উপর দিয়ে বিদ্যুতের তার যাবে, তা নিয়ে আপত্তি, বিবাদ রয়েছে। গ্রামের সকলে সহযোগিতা করলে সমবায় সাধ্যমতো চাষিদের জল দেওয়ার চেষ্টা করবে।