উচ্চ মাধ্যমিকে পাশ করে স্কুল ড্রেসে লেখা হল নাম, পড়ল হাতের ছাপও!
বর্তমান | ১৮ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: সাদা জামায় অন্য কারও হাতের ছাপ। কেউ জামায় লিখেছে বন্ধুত্বের বার্তা। কেউ বন্ধুর নাম লিখেছে জামায়। তারা জানিয়েছে এ শালোয়ার কামিজ কোনোদিন কাচা হবে না। বন্ধুত্বের অক্ষয় বার্তা আজীবন বহন করবে কিশোরী বয়সের এই স্কুল ড্রেস। আমৃত্যু তাতে ধরা থাকবে স্কুলজীবনের হাসি-কান্না-ঠাট্টা-আনন্দ।
শুক্রবার কাকদ্বীপের সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দিরের উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়ারা টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) নিতে স্কুলে গিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছেন তাঁরা। সার্টিফিকেট নিতে স্কুল ড্রেস পরেই এসেছিলেন তাঁরা। তারপর জামায় স্কুলজীবনের কথা খোদাই করে বাড়ি ফিরলেন। উচ্চ মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশ হওয়ায় ছেদ পড়ল স্কুল জীবনে। এবার পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষার পথে এগবেন। স্কুল পড়ে থাকবে পিছনে। জীবনযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর স্মৃতি ফিকে হতে থাকবে। কিন্তু তা কি হয়? আশৈশব যে বন্ধুরা জড়িয়ে ছিল জীবনে তাদের ভুলে যাওয়া কি সহজ? তবে প্রকৃতির নিয়মে একসময় সবই যায় দূরে চলে। তাই মনে রাখার কত না কৌশল মানুষ করে থাকে জীবনে। তারই একটা করে ফেলল সুন্দরবন বিদ্যামন্দিরের পড়ুয়ারা। স্মৃতিকে স্মরনীয় রাখতে স্কুল ড্রেস হয়ে উঠল মনে রাখার উজ্জ্বল ক্যানভাস।
উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ স্নেহা দাস বলেন, ‘সকাল থেকে খুব উতলা ছিলাম। স্কুল জীবনের শেষদিন। বন্ধুদের চিরকাল মনে রাখতে, সব স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে স্কুল ড্রেসটাকেই বেছে নিয়েছি আমরা। আমাদের পোশাকের মধ্যে আজীবন লুকিয়ে থাকবে বন্ধুদের হাতের ছোঁয়া।’ অন্যান্য ছাত্রীরা জানান, সবাই মিলে স্কুলের সাদা পোশাকে পেন দিয়ে লিখেছি একে অপরের নাম। অনেকে অতীতের ছোটো ছোটো কথা শালোয়ার-কামিজে লিখে দিয়েছে। কেউ হাতে রং মেখে জামায় ছাপ দিয়েছে। এই জামা কেউ কাচব না। যত্ন করে গুছিয়ে রাখব বাড়িতে। বন্ধুদের সব স্মৃতি মনে পড়বে আলমারি খুলে জামাটা একবার বের করলে। নিজস্ব চিত্র