পাঠাগারে পার্টি অফিস, ক্ষুব্ধ কাকদ্বীপের বাসিন্দারা
বর্তমান | ১৮ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: পাঠাগারের জন্য একটি নয়া বাড়ি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেটি হস্তান্তর না করে পার্টি অফিস হিসাবে ব্যবহার করে তৃণমূল। এই ইস্যুতে ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা।
উদ্বোধনের পরও কেন সরকারি পাঠাগারের নতুন ভবন হস্তান্তর করা হল না। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কাকদ্বীপবাসী। তাঁদের অভিযোগ, গ্রন্থাগার দপ্তরের আর্থিক সাহায্যে ও সাংসদ কোটার টাকায় তৈরি করা হয়েছিল কাকদ্বীপ বিদ্যাসাগর সাধারণ পাঠাগারের নতুন ভবন। ২০১৪-’১৫ অর্থবর্ষে নতুন ভবনটির উদ্বোধন হয়। ফলক পর্যন্ত বসানো হয়। কিন্তু তারপরও দোতলা ভবনটি বিদ্যাসাগর সাধারণ পাঠাগারকে হস্তান্তর করা হয়নি। বাড়িটি তৃণমূলের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
অভিযোগ, পাঠাগারের জন্য তৈরি বাড়িতে রাজনৈতিক কাজকর্ম চালান নেতারা। দলের বৈঠক ইত্যাদি এই ভবনে বসেই করেন নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে পাঠাগারের পুরনো বাড়িটি এখন ভগ্নপ্রায় হয়ে গিয়েছে। সব বইপত্র নষ্ট হচ্ছে। পাঠকরা পাঠাগারে যেতে পারেন না। কারণ বসে পড়ার মতো পরিবেশই নেই। এ বিষয়ে বিদ্যাসাগর সাধারণ পাঠাগারের প্রাক্তন গ্রন্থাগারিক দীপক মাইতি জানান, ১৯৬১ সালে কাকদ্বীপের সুন্দরবন বালিকা বিদ্যা নিকেতনের দুই শতক জায়গার উপর পাঠাগারটি তৈরি করা হয়েছিল। পরে গৌড়ীয় আশ্রম ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমতিতে তাদের জমির উপর গ্রন্থাগার দপ্তরের ও সাংসদ কোটার টাকায় পাঠাগারের জন্য নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনটির উদ্বোধনও হয়। কিন্তু সেটি পাঠাগারকে হস্তান্তর করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো সুফল মেলেনি। ওথেলো হক নামে কাকদ্বীপের এক ব্যক্তি বলেন, ‘পুরনো ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। পরে নতুন একটি ভবন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কেন সেটি হস্তান্তর করা হয়নি সে বিষয়ে জানা নেই। এই অবস্থায় প্রচুর বই নষ্ট হচ্ছে।’ বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক কৌশিক দাস বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই তদন্ত হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের টাকায় নতুন ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি পাঠাগারকে হস্তান্তর করা হয়নি। ওখান থেকে তৃণমূলের পার্টি অফিস চালানো হত। এই তথ্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।’