• দু’বছর আগে উপ নির্বাচন থেকেও ১০ হাজার ভোট কমেছে বামেদের, বরানগরে ৩৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৩টিতে হার ঘাসফুলের
    বর্তমান | ১৮ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পরিবর্তনের ঝড়ে বরানগরে উড়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। দু’বছর আগেও উপ নির্বাচনে আট হাজার ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই কেন্দ্রেই সায়ন্তিকাকে প্রায় ১৭ হাজার ভোটে হারিয়ে বিজয়টিকা পড়েছেন বিজেপির সজল ঘোষ। বরানগরের ৩৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৩৩টিতে। পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, প্রভাবশালী নেতাদের ওয়ার্ডে গোহারা হারতে হয়েছে তৃণমূলকে। একইভাবে এই দু’বছরের ব্যবধানে সিপিএমের ভোট কমেছে প্রায় আট হাজার। 

    ২০১১ সাল পর্যন্ত বরানগর ছিল সিপিএমের দুর্গ। কিন্তু পরিবর্তনের ঝড়ে সেবার ভেঙে পড়েছিল সেই গড়। ২০২৪ সালের উপ নির্বাচন পর্যন্ত বরানগর ছিল তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ। এবার বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ পেয়েছেন ৮১ হাজার ৭৩০টি ভোট। তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৭৭৪ ভোট। আর সিপিএমের সায়নদীপ মিত্র পেয়েছেন ১৬ হাজার ৬৮৯ ভোট। সজলের জয়ের ব্যবধান ১৬ হাজার ৯৫৬। দু’বছরে বামেদের ভোট প্রায় ১০ হাজার কমেছে। উপ নির্বাচনে সেবার সিপিএমের তন্ময় ভট্টাচার্য পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ৭৩৫ ভোট। এবার কংগ্রেস প্রার্থী কল্যাণী চক্রবর্তী লড়াই করে পেয়েছেন ১ হাজার ১৯১ ভোট। নোটায় পড়েছে ১ হাজার ১৯৭ ভোট। বাকি ছ’জন প্রার্থীর ভোট ৫০০ পেরোয়নি। 

    এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে বরানগর পুরসভার ৩৪টি ওয়ার্ড ছাড়াও কামারহাটি পুরসভার ৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। এই ৩৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল পাঁচটি ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল। বাকি সব ওয়ার্ডেই ধরাশায়ী তৃণমূল। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে ৪০০ ভোটে। এটাই তৃণমূলের সেরা ফলাফল। এছাড়াও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২২০ ভোট, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫০ ভোটে তৃণমূল এগিয়ে ছিল। এছাড়া ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১ ভোটে ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ ভোটে তৃণমূল এগিয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, অন্যান্য সিআইসি, শহর তৃণমূল সভাপতি সহ সব নেতাদের সব ওয়ার্ডে তৃণমূল বিপুল ভোটে হেরেছে। এনিয়ে কর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, বছরের পর বছর নিজেদের ওয়ার্ডে হেরে যাওয়া নেতাদের মাথার উপর চাপিয়ে দিলে এমন ফলাফল হবে। কাউন্সিলারদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে ওয়ার্ডভিত্তিক দলীয় সংগঠনকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করা হয়েছে। সিংহভাগ জায়গায় কাউন্সিলারদের আজ্ঞাবহরাই ওয়ার্ডে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাঁদের কথাকে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। পরিবর্তনের ঝড়ের পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলারদের ভাবমূর্তিও জনমানসে বহু প্রশ্ন তুলেছিল। এবার বরানগরে প্রায় ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। নতুন ভোটার ও দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের জনাদেশও তৃণমূলের বিপক্ষে গিয়েছে।

    শহর তৃণমূল সভাপতি তথা কাউন্সিলার বিশ্বজিৎ বর্ধন বলেন, হারের কারণ দল পর্যালোচনা করছে। বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলার সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, সীমাহীন দুর্নীতি, তোষণ থেকে সারা রাজ্যের মতো বরানগরের মানুষও মুক্তি চেয়েছিল। তাই এমন ফলাফল হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)