• হুমকি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের কর্তার বিরুদ্ধে নালিশ গিয়াসউদ্দিনের
    এই সময় | ১৮ মে ২০২৬
  • এই সময়: পুলিশ অফিসার মিঠুন দে হুমকি দিতেন, তোলাবাজি করতেন বলে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, তৃণমূলেরই গিয়াসুদ্দিন মোল্লা। মিঠুন ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও থাকার সময়ে গিয়াসুদ্দিনকেও হুমকি দিয়েছিলেন বলে এই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পাল্টা মিঠুনের দাবি, পুরো অভিযোগই মিথ্যে। তিনি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

    গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে মিঠুন লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে টিকিট বিলি করেছেন বলেও দাবি করেছেন গিয়াসুদ্দিন। তাঁর দাবি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করে এই সব কুকর্ম করেছেন মিঠুন। ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপারের দপ্তরে গিয়াসুদ্দিনের এই অভিযোগ জমা দিয়েছেন ১৫ মে। মিঠুনের বিরুদ্ধে বিবিধ অভিযোগ তুলে যথাযথ তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তুলেছেন গিয়াসুদ্দিন। মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের এই তৃণমূল বিধায়ককে ২০২৬–এর ভোটে জোড়াফুল টিকিট দেয়নি। এ বিষয়ে ডায়মন্ড হারবারের এসপি ঈশানি পালকে ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, গিয়াসুদ্দিন মোল্লার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    অভিযোগপত্রে রাজ্যের প্রাক্তন এই মন্ত্রী ২০২৩–এর ২২ জানুয়ারির একটা ঘটনার উল্লেখ করেছেন। একটি মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উস্থি থানায় তিনি গেলে সেখানে মিঠুন গিয়াসুদ্দিনকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। গিয়াসুদ্দিন অভিযোগপত্রে লিখেছেন, 'আমার পদমর্যাদা ও সম্মানের কথা না ভেবে তৎকালীন এসডিপিও মিঠুন কুমার দে আমার দিকে লাঠি নিয়ে তেড়ে আসেন এবং আমাকে বলেন, 'আমার বাপ (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) আমাকে পাওয়ার (ক্ষমতা) দিয়েছে। আমার যা ইচ্ছে তাই করব। যাকে খুশি তুলে আনব আর তুই বেশি কথা বললে তোকেও লক–আপে ঢুকিয়ে দেব।'

    ২০২৩–এর ঘটনা নিয়ে এতদিন পরে কেন অভিযোগ দায়ের করলেন? গিয়াসুদ্দিনের যুক্তি, 'আমি দলকে বিষয়টি জানাই। কিন্তু দলের তরফে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।' গিয়াসুদ্দিনের এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। মিঠুনের এই আচরণ নিয়ে পুলিশ–প্রশাসনকে গিয়াসুদ্দিন বিশদে জানালেও তাঁদের পক্ষে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও এই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।

    মিঠুনের বিরুদ্ধে টাকা তোলার গুরুতর অভিযোগ তুলে অভিযোগপত্রে গিয়াসুদ্দিন লিখেছেন, 'গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান করার জন্য কারও কাছ থেকে ১০ (লক্ষ), কারও কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা তোলা নেন। দু–তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে পঞ্চায়েত সমিতির টিকিট দেন। নির্বাচনের পরে পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন করেন। এমনকী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি করার জন্য প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা নেন।' ছোট ব্যবসায়ী, তৃণমূলের কর্মী, এমনকী একটি নামি কোম্পানির শো–রুম থেকেও মিঠুন তোলা তুলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল মন্ত্রিসভার প্রাক্তন এই সদস্য।

    যাঁর বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ, সেই মিঠুন এখন পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের রেলের পুলিশ সুপার। তিনি ফোনে বলেন, 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে করা অভিযোগ। পুরোটাই মিথ্যে। ও (গিয়াসুদ্দিন) নিজে ক্রিমিনাল। ভিক্টিম কার্ড খেলার জন্য এখন এ সব করছেন। আমি মানহানির মামলা করব।'

  • Link to this news (এই সময়)