সুমন ঘোষ, খড়্গপুর
রাজ্যে পট–পরিবর্তনের পরেই সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নেমে পড়ল আরএসএসের শিক্ষক সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ’ (এবিআরএসএম)। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১০ হাজার সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে ওই সংগঠন। প্রথমে ব্লক থেকে চক্র, তার পরে স্কুলস্তরেও চলবে এই অভিযান। শুরুতে বেশ সাড়াও মিলছে।
রাজ্যে পালাবদলের আগে জেলা-জুড়ে বড়জোর দেড়শো জন শিক্ষক ছিলেন ওই সংগঠনে। সেখানে ৪ মে-র পরে মাত্র ১২ দিনেই তিন হাজার শিক্ষক আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন। সংগঠনের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সভাপতি দেবাঞ্জন হড় বলেন, ‘আগে তৃণমূলের বাধায় আমরা সংগঠন করতে পারিনি। এখন শিক্ষকরাই উৎসাহিত হয়ে আমাদের সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদনপত্র নিচ্ছেন। আমাদের লক্ষ্য, জেলায় ১০ হাজার শিক্ষক–শিক্ষিকাকে সদস্য করা।’
সদ্য ওই শিক্ষক সংগঠনের জাতীয় কার্যকারিনী সভা হলো কর্নাটকে। সেখানে যোগ দিয়েছিলেন এ রাজ্যের শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি বাপি প্রামাণিকও। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের রাজ্য কমিটির সদস্য বিশ্বনাথ দাস বলেন, ‘জাতীয় কার্যকারিনী সভা থেকে নারীশক্তির উপরে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে, আমাদের লক্ষ্য থাকবে শিক্ষিকাদেরও সংগঠনে শামিল করা।’ বিশ্বনাথ জানান, এই শিক্ষক সংগঠন আর পাঁচটি রাজনৈতিক দলের শিক্ষক সংগঠনের চেয়ে একেবারে আলাদা। তাঁর কথায়, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করা। শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করা। ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে গুরু-শিষ্যের মতো শ্রদ্ধার সম্পর্ক তৈরি করা।’
সদস্য সংগ্রহে ইতিমধ্যেই জেলা কমিটির সদস্যদের এক একটি ব্লকের পালক (কনভেনার) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ব্লকে ব্লকে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। সংগঠনের গুরুত্ব, সদস্যদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে চলছে আলোচনা। তার পরে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদনপত্র দেওয়া হচ্ছে। ব্লক এবং চক্র স্তরে সেই কাজ শেষ হলে প্রতিটি স্কুলেও ইউনিট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বনাথ জানান, যেহেতু এই সংগঠন জাতীয়তাবাদী, রাষ্ট্রবাদী সংগঠন, তাই আগের তৃণমূল সরকার জেলায় কোথাও সংগঠন করতে দেয়নি। মেদিনীপুর, খড়্গপুর, ঘাটালের মতো শহরে থাকা হাতেগোনা কিছু শিক্ষক নিয়েই সংগঠন চলছিল। বিশ্বনাথ বলেন, ‘রাজ্যে এখন জাতীয়তাবাদী সরকার এসেছে। ফলে, আমাদের সংগঠন গড়ার ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইল না। যে কেশপুরে আমাদের কোনওদিন ঢুকতে দেওয়া হয়নি, সেই কেশপুরের অনেকেই সদস্য হওয়ার জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন।’