এই সময়, নৈহাটি: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলে পর একের পর এক কমিটিতেও পরিবর্তন আসছে। সেই ধারা বজায় রেখে এ বার নৈহাটির বড়মা মন্দির কমিটি ভেঙে দেওয়া হলো। নৈহাটির নবনির্বাচিত বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, বড়মার মন্দির কমিটিতে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব স্থান পাবেন না। মন্দিরের সেবায়েতরাই থাকবেন। পাশাপাশি ভিআইপি কালচার বন্ধের নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। বিধায়কের নির্দেশ মেনে মন্দিরের তরফে জানিয়ে দেওয়া হলো, আপাতত বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে যতদিন পর্যন্ত না নতুন কমিটি গঠিত হচ্ছে, ততদিন পুরোনো কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য কাজকর্ম পরিচালনা করবেন।
এত দিন বড়মা মন্দির কমিটির সভাপতি ছিলেন নৈহাটি পুরসভার পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়। কমিটিতে প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক সনৎ দে, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের ছেলে অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরো কমিটিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল বলে দাবি বিজেপির। গত বৃহস্পতিবারই বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে বড়মা মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের বৈঠক হয়েছিল। সেখানেই এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এই মন্দির নতুন করে নির্মাণে পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়ের বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতা হারানোর পর বড়মা মন্দিরের পরিচালন কমিটিতেও পরিবর্তন হলো। নৈহাটির বড়মা মন্দিরে দূর দূরান্ত থেকে অগণিত ভক্ত আসেন পুজো দিতে। অভিযোগ, ভিআইপি কালচারের জন্য সাধারণ ভক্তদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ বার থেকে ভিআইপি বলে কিছু থাকবে না বলে জানিয়ে দেন সুমিত্র। তাঁর দাবি, 'প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীদের মতো পদাধিকারী বাদ দিয়ে প্রত্যেককেই লাইনে দাঁড়াতে হবে এ বার থেকে।'
নতুন কমিটি প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত বিধায়ক বলেন, 'খুব শিগগির নতুন কমিটি তৈরি হবে। কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবে না। কারণ বড়মা কোনও দলের নয়। আমি স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে ওই কমিটির চেয়ারম্যান পদে থাকব। কমিটি তালিকায় নৈহাটির প্রতিষ্ঠিত শিক্ষক, চিকিৎসকদের মতো বিশিষ্টরা যেমন থাকবেন, তেমনই নৈহাটির সন্তান সঙ্গীতশিল্পী রাঘব চট্টোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ জানাব।' বিদায়ী কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য বলেন, 'বিধায়ক যে ভাবে আদেশ দিচ্ছেন সেভাবে করছি।' তবে তাঁর সংযোজন, নৈহাটির বাসিন্দাদের পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে আধার কার্ড দেখালে আগে পুজো দেওয়ার যে ছাড়পত্র চালু ছিল সেটি বহাল থাকবে।