সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর
বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরে তৃণমূলের অন্দরমহলে চলছে ময়নাতদন্ত। এবং সেই কাটাছেঁড়ায় বসে স্থানীয় নেতৃত্ব দেখতে পাচ্ছেন, দুর্গাপুর পুর এলাকাতেই ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের! ৪৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র তিনটি ওয়ার্ডে (২, ১২ এবং ১৪) জিতেছে তৃণমূল।
তৃণমূল কর্মীদের একাংশ তো বটেই, বিরোধী শিবির ও সাধারণ মানুষ এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করছেন পুরবোর্ড–সহ কিছু কাউন্সিলারকে। সাধারণ মানুষের অভিমত, গত চার বছরে দুর্গাপুর পুরসভায় নাগরিক পরিষেবা তলানিতে পৌঁছেছিল। পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল কাউন্সিলারদের একাংশের ঔদ্ধত্য। পরিসংখ্যানে এ–ও দেখা গিয়েছে, পুরসভার চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়ের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল হেরেছে ২,৭৩৬ ভোটে। ২০২২–এ পুরসভার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তার পরে নির্বাচনের পথে না–হেঁটে পাঁচ জনের প্রশাসকমণ্ডলী পুরবোর্ড পরিচালনা করবে, সেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে একজন চেয়ারপার্সন ও একজন ভাইস চেয়ারপার্সন পুরবোর্ড পরিচালনা করতেন। জনসাধারণের প্রশ্ন, মাত্র দু‘জনকে দিয়ে ৪৩টি ওয়ার্ডে কী ভাবে নিয়মিত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব। পুরসভার অন্দরে তা নিয়ে প্রশ্ন করেন বিরোধীরাও। অভিযোগ, তাতে আমল দেননি তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসকমণ্ডলীর পাঁচ সদস্যকে ‘অপদার্থ’ বলে ভর্ৎসনাও করেছিলেন। অভিযোগ, তার পরেও কেউ নিজেদের শোধরানোর চেষ্টা করেননি।
ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলার না–থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের রেসিডেন্সিয়াল সমেত অন্য সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য পুরসভায় এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। অধিকাংশ ওয়ার্ডে জল ও নিকাশি নালার সমস্যা ছিল তীব্র। বর্ষায় বৃষ্টি হলে নিকাশি নালা উপচে জল ঘরেও ঢুকে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সব সমস্যা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা ছিল না একাংশের কাউন্সিলারের। তাঁরা তোলাবাজিতে ব্যস্ত ছিলেন। কেউ দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের কোয়ার্টার দখল করে ভাড়া দিয়ে বাড়তি রোজগার করেছেন। আবার কেউ বাজারে দোকান থেকে তোলা আদায় করেছেন।
১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার রাখি তিওয়ারিকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে কিন্তু দল জিতেছে। আমি কাউন্সিলার থাকালালীন নিজের কাজ করেছি।’ দুর্গাপুর পূর্ব এবং দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের দুই জয়ী বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলছেন, ‘বেহাল নাগরিক পরিষেবা ও কাউন্সিলারদের একাংশের ঔদ্ধত্য নিয়ে অনেক আগেই সরব হয়েছি আমরা। আগামী ছ’মাসের মধ্যে পুরভোট হবে। আমাদের বোর্ড গঠন হলে উন্নত নাগরিক পরিষেবা পাবেন বাসিন্দারা।’