আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দিলীপ ঘোষ একগুচ্ছ জ্বলন্ত বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত কড়া ও চাঁছাছোলা বক্তব্য রেখেছেন। সোমবার ক্যাবিনেট বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, আজ মন্ত্রিসভায় বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং সপ্তম বেতন কমিশন রূপায়ণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। কিছুটা আর্থিক টান থাকায় হয়তো একটু সময় লাগবে, তবে আগের সোমবার ক্যাবিনেট মিটিংয়ে নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই রূপায়িত হতে শুরু করেছে। পাশাপাশি চাকরির বয়সের ঊর্ধ সীমা শিথিলতার বিজ্ঞপ্তি অর্থ দপ্তর প্রকাশ করে দিয়েছে এবং মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ বিস্তার সম্পূর্ণ হলে বাকি কাজগুলো আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফ-এর জন্য জমি বাছাই এবং মাপজোক শুরু হয়ে গেছে এবং খুব তাড়াতাড়ি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
রেলের জমি উচ্ছেদ প্রসঙ্গে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট করে দেন যে, স্টেশন চত্বরের ভয়াবহ জবরদখল পরপর খালি করা হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে উত্তর প্রদেশের যোগী রাজ্যের মডেল ফলো করা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিরোধীরা ভেবেছিল এখানে ভোগী রাজ্য চলবে, কিন্তু এখন যেখানে আরপিএফ পারবে ক্লিয়ার করবে এবং তারা না পারলে রাজ্য পুলিশ সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। রাজাবাজার, পার্ক সার্কাস ও আসানসোলের মতো এলাকাগুলোর নাম উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, ধার্মিক ভাবাবেগ কাজে লাগিয়ে প্রশাসনকে ফাঁদে ফেলার চক্রান্ত থেকে যেন সবাই বিরত থাকে, নাহলে প্রশাসনের হাত আরও অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। কাশ্মীর বা উত্তর প্রদেশের পাথর ছোঁড়ার ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পুলিশ ফ্রি হ্যান্ড পেলে কাজ করতে পারে। এই রাজ্যে এখন সরকার ও কালচার দুই-ই চেঞ্জ হয়ে গেছে, তাই অশান্তি সৃষ্টিকারী এবং তাদের মদতদাতাদের এবার জেলেই যেতে হবে।
প্রাক্তন সরকারের ভিআইপি সংস্কৃতিকে নিশানা করে তিনি জানান, অরূপ বিশ্বাস সহ একাধিক ভিআইপির বিশেষ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যারা মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন তারা নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরে বেড়াত বলে রাস্তায় ডিউটি করার জন্য পুলিশ পাওয়া যেত না, তবে এবার থেকে পুলিশ নিজের আসল কাজ করবে। সল্টলেক স্টেডিয়ামের সামনের মূর্তি বা বিশ্ব বাংলা লোগো নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, হঠাৎ রাতে শুতে যাওয়ার সময় মাথায় এলো আর পরের দিন তৈরি হয়ে গেল—মমতা ব্যানার্জি সব জায়গায় শুধু নিজের ছবি দিয়ে গেছেন, মেট্রো স্টেশনের নাম এমন করেছেন যে বোঝা যায় না কে কোথায় নামবে, এমনকি পাঠ্যক্রমে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ঢুকিয়ে শুধু রাজনীতির লাভ দেখেছেন। ভোটের আগে মেসিকে দিয়ে প্রচারের ঝান্ডা ধরানোর চেষ্টা হয়েছিল দাবি করে তিনি হুঙ্কার দেন যে, মানুষের টাকার হিসেব না দিলে এবার জেলের ভাত খেতে হবে। সবশেষে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় বদলের কথা ঘোষণা করে তিনি জানান, আজ থেকে সমস্ত স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কারণ এই মন্ত্র দেশহিত, ত্যাগ ও স্বাধীনতার মন্ত্র।