নবান্নে শুভেন্দু সরকারের দ্বিতীয় ক্যাবিনেট, নজরে বকেয়া ডিএ ও সপ্তম পে কমিশন
প্রতিদিন | ১৮ মে ২০২৬
বেতন সংশোধন থেকে বকেয়া ডিএ, সোমবার নবান্নে দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা। প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি দুর্নীতি ইস্যুতে কী কী পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার, এদিন মিলতে পারে তার ইঙ্গিতও। অন্যদিকে, এদিনই বিএসএফ-এর সঙ্গে জমি হস্তান্তর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বৈঠক করার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। গত সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময়ই তিনি জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আর জি কর, নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি থেকে পে কমিশন এবং বকেয়া ডিএ নিয়ে আলোচনা হবে। স্বাভাবিকভাবেই আজ কী চমক থাকতে পারে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি কর্মী থেকে আমজনতাও। বিএসএফকে জমি হস্তান্তর, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করার মতো একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রথম বৈঠকেই নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের পর সামান্য সময়ের মধ্যেই মন্ত্রিসভার বৈঠক করতে হয়েছে। সব বিষয়ে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। তাই দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে পরবর্তী ইস্যুগুলি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তাঁর ঘোষণা ছিল, একদিকে সুশাসন ও সুরক্ষার পথে এগোবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি ডবল ইঞ্জিন সরকারের যে সমস্ত প্রকল্প রয়েছে, তার মাধ্যমে রাজ্যের মানুষকে সুবিধা দেওয়া হবে। বিগত সরকারের আমলেই সুপ্রিম কোর্ট সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকারকে। কিন্তু আদালতের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে পুরো বকেয়া মেটানো হয়নি। ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত একাংশের বকেয়া মেটানো হলেও ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘভাতা মেলেনি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি কর্মীমহল মনে করছে, বকেয়া ডিএ সম্পূর্ণ মিটিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটতে পারে রাজ্য সরকার।
বিষয়টি নিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভ্য যে বিশেষভাবে ওয়াকিবহাল, তা আগেই জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র সঙ্গে বেতনের পরিকাঠামো নিয়েও নয়া সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলেই অর্থ দপ্তর সূত্রে খবর। বিজেপি নির্বাচনী সংকল্পপত্রে সপ্তম বেতন কমিশনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকারি কর্মীদের দাবি, সপ্তম বেতন কমিশন চালু হলে একধাক্কায় বেতন অনেকটাই বাড়বে। ফলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।