সেপ্টেম্বরে পরীক্ষা, একাদশ ও দ্বাদশের হাতে নেই সাহিত্যের বই
আনন্দবাজার | ১৮ মে ২০২৬
সেপ্টেম্বরে উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা। অথচ এখনও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের হাতে বাংলা বই এল না। এ দিকে চলছে গরমের ছুটি। খুলবে জুন মাসের এক তারিখে। স্কুল খোলার পরে জুন মাসে বাংলা বই এলে, তারা আর কতটা বাংলা ক্লাস করার সুযোগ পাবে, উঠেছে সেই প্রশ্ন। শুধু দ্বাদশ শ্রেণির বাংলাই নয়, মাধ্যমিক পাশ করে যারা একাদশে উঠল, তারাও এখনও বাংলা এবং ইংরেজি বই পায়নি। তাদেরও প্রথম সিমেস্টার পরীক্ষা সেপ্টেম্বরে।
একাদশ-দ্বাদশে বাংলা এবং ইংরেজি পাঠ্যবই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ থেকে দেওয়া হয়। বাকি বই তাদের বাজার থেকে কিনতে হয়। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, এপ্রিল থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে। অথচ এখনও পড়ুয়ারা বাংলা বই পায়নি। দ্বাদশের পাঠ্যক্রমে দু’টি বাংলা বই রয়েছে। সাহিত্যানুশীলন এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, তাঁদের হাতে এই দু’টি বই আছে, যা গত বছর তাঁরা পেয়েছিলেন। প্রশ্ন হল, শিক্ষকদের হাতে বই থাকলেই তো হবে না। পড়ুয়ারা কী ভাবে পড়বে?
বেলগাছিয়া মনোহর অ্যাকাডেমির বাংলার শিক্ষিকা সুমনা সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘তৃতীয় সিমেস্টার এমসিকিউয়ের উপরে হবে। পাঠ্যবইয়ের প্রতিটা লাইন না পড়লে এমসিকিউয়ের উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু শিক্ষকদের হাতে বই থাকলে হবে না। প্রতিটি পড়ুয়ার হাতে বই জরুরি। তৃতীয় ও চতুর্থ সিমেস্টার নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের মূল্যায়ন হয়। ফলে এখন তৃতীয় সিমেস্টারের গুরুত্ব পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে খুবই বেশি।’’
শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এর আগে এপ্রিল মাসে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ জানিয়েছিল, এক মাসে উচ্চ মাধ্যমিকের দু’টি বাংলা বই পড়ুয়ারা পাবে। কিন্তু মে মাসের মাঝামাঝি হয়ে গেল। এক শিক্ষক বলেন, ‘‘রাজনৈতিক পালাবদলের পরে বই পাওয়া নিয়ে আরও বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদল হতেই পারে। কিন্তু সেই প্রভাব যেন পড়াশোনায় না পড়ে। পাঠ্যক্রম পাল্টালে পরের শিক্ষাবর্ষ থেকে হবে। সে ক্ষেত্রে বই প্রকাশে এত দেরি হচ্ছে কেন? বই দু’টি গরমের ছুটির আগে পেলে অনলাইন ক্লাস করেও পাঠ্যক্রম এগোনো যেত।’’
একই ভাবে একাদশের বাংলা এবং ইংরেজি বই পায়নি পড়ুয়ারা। শিক্ষকদের মতে, একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া সবে শেষ হয়েছে। ক্লাস শুরু হবে। তাদেরও প্রথম সিমেস্টার সেপ্টেম্বরেই হবে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের এক কর্তা অবশ্য বলেন, ‘‘বাংলা বই ছাপার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। কেন এখনও বই বিতরণ হয়নি, খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’’
অভিভাবকেরা মনে পড়ছে, গত বারেও সময়ে বই পায়নি বলে পড়ুয়াদের সমস্যা হয়েছিল। তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে পরীক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকেরা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতির সামনে ক্ষোভ প্রকাশও করেন। এক অভিভাবক বলেন, ‘‘গত বছর না হয় প্রথম বার সিমেস্টার পদ্ধতি হয়েছিল, তাই ওই সমস্যা। এ বারে একই সমস্যা কেন হবে? সময়ে বই পাওয়া যাচ্ছে না বলে অনেকের কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের ফল আশানুরূপ হচ্ছে না।’’