• রয়েছে বিষণ্ণতা, একাকিত্বও, আবেগে ঘেরা রাহুলের শেষ সিনেমা ‘ছবিওয়ালা’
    এই সময় | ১৮ মে ২০২৬
  • বাংলা ছবির জগতে অনেক সময়ে এমন কিছু সিনেমা আসে, যেগুলো নিখুঁত না হয়েও দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। ‘ছবিওয়ালা’ ঠিক তেমনই একটি ছবি। কারণ এই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু এর গল্প নয়, বরং এটি প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনীত শেষ ছবি।

    পরিচালনায় শুভ্রজ্যোতি ওরফে বাপ্পা। গল্পের কেন্দ্রে এক হতাশ, ব্যর্থ এবং ক্রমশ ভিতর থেকে ভেঙে পড়া মানুষের জীবন। রাহুল এখানে একজন ক্যামেরাম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তার বাবা-ও একই পেশার মানুষ ছিলেন। কিন্তু জীবনের চাপে, সংসারের দায়ে এবং নিজের অসফলতাকে মেনে নিতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয় তাকে। বাবার মতোই রাহুলের চরিত্রও একের পর এক ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়। তার পেশা ছবি তোলা হলেও কোথাও সে স্বীকৃতি পায় না। ফলে ধীরে–ধীরে তাকে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় মৃত মানুষের ছবি তুলে। এই বিষয়টাই ছবিকে অন্য রকম একটা অন্ধকার আবহ দেয়। ছবির গল্পে বিষণ্ণতা আছে, একাকিত্ব রয়েছে, আর আছে সমাজের চোখে ‘অসফল’ হয়ে যাওয়া মানুষের যন্ত্রণা। তবে ছবির গতি অনেক সময় ধীর লাগে। কিছু দৃশ্য আরও সংক্ষিপ্ত হলে হয়তো ছবিটা বেশি টানটান হতে পারত। মাঝেমধ্যে গল্পটা কিছুটা একই রকম মনে হয়।

    তবে অভিনয়ের জায়গায় রাহুল নিজের চরিত্রকে যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তাঁর চোখের ক্লান্তি, চুপচাপ ভেঙে পড়া মানুষটার অসহায়তা খুব স্বাভাবিক লেগেছে। দেবলীনা দত্ত-ও নিজের চরিত্রে সাবলীল। ছবির সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট সিনেমার শেষ অংশ। যে দৃশ্য নিঃসন্দেহে আবেগপ্রবণ করে তোলে। কারণ পর্দার গল্প আর বাস্তবের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পান দর্শক। একজন শিল্পীর শেষ কাজ হিসেবে দৃশ্যটি আরও বেশি কষ্ট দেয়।

    সব মিলিয়ে ‘ছবিওয়ালা’ অসাধারণ সিনেমা না হলেও একেবারে ফেলনা নয়। ছবির নির্মাণ মাঝারি মানের, গতি ধীর, কিন্তু গল্পের আবেগ এবং রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ছবিটিকে আলাদা গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে শেষ দৃশ্য সিনেমা শেষ হওয়ার পরও অনেকক্ষণ মনে থেকে যায়।
  • Link to this news (এই সময়)