•  ১১৭ ইটভাটা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব বকেয়া ২২ লক্ষ অডিট রিপোর্ট নবান্নের
    বর্তমান, 16 September 2020
  • সায়ন্ত ভট্টাচার্য, বারাকপুর: বেআইনি ইটভাটার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা। তারই মধ্যে নতুন করে আরও একটি বিষয় উঠে এল। তাও খোদ নবান্নের অডিট রিপোর্টে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের কাছে ভূমি রাজস্ব দপ্তরের পাঠানো ওই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ১১৭টির মতো ইটভাটা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে গত দু’বছরে রাজ্যের কোষাগারে কোনও টাকাই আসেনি। বকেয়ার পরিমাণ ২২ লাখ ৭৭৯ টাকা। চলতি অর্থসঙ্কটের সময়েও কেন এই টাকাগুলি আদায় করা হয়নি, তা জানতে চেয়েছে ভূমিদপ্তর। ওই দপ্তরের এক কর্তার কথায়, ইটভাটাগুলির মালিকদের বকেয়া টাকা জমা দেওয়ার ব্যাপারে প্রথমে সতর্কবার্তা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও তাঁরা বকেয়া অর্থ না জমা দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার ভূমি ও বন কর্মাধ্যক্ষ এ কে এম ফারহাদ বলেন, আমরা রিপোর্ট পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    জেলা প্রশাসনের হাতে আসা অডিট রিপোর্টের ‘সিক্স-এ’ অনুচ্ছেদে লেখা হয়েছে, বারাসত-২ ব্লকে রাজস্ব বকেয়া রাখা ইটভাটার সংখ্যা ৭০। বিএল অ্যান্ড এলআরও’র ব্রিক ফিল্ড রেজিস্টার, কমার্শিয়াল রেজিস্টার এবং রেজিস্টার ৩ এবং ৪’এ এই ৭০টি ইটভাটার উল্লেখ রয়েছে। এদের কাছ থেকে বকেয়া রয়েছে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৬০ টাকা। ৭০টি ইটভাটা মোট ৩৫৩ একর জমি নিয়ে ব্যবসা করছে। নিয়মানুযায়ী, এই ইটভাটাগুলিকে প্রতি একরে এক হাজার টাকা এবং ৮৬ শতাংশ সেস দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দু’বছর ধরে সেই টাকা বকেয়া রেখেছেন সেগুলির মালিকরা।

    অডিট রিপোর্টের ‘সেভেন-বি’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বারাসত-২ ব্লকেরই রেজিস্টার ১, ৩, ৪-এ মোট ৩৭টি ইটভাটা এবং সরকারি জমিতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বারাসত পুরসভার জমিতেও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি তৈরি হয়েছে। ব্যবহার করছে মোট ১৯.৮০ একর জমি। এই ৩৭টি ইটভাটা এবং প্রতিষ্ঠান থেকে গত দু’বছরে রাজস্ব এবং সেস বাবদ সরকারের প্রাপ্য মোট ৭ লাখ ২১ হাজার ৩৮ টাকা। কিন্তু তা আদায়ে কোনও সক্রিয়তা দেখায়নি প্রশাসন। অথচ, ব্যবসায়ীরা লাভ তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। এখানকার জমিতে একর প্রতি বছরে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১৫ শতাংশ সারচার্জ দেওয়ার কথা।

    রিপোর্টের ‘এইট-সি’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বারাসত-২ ব্লকের রেজিস্টার ১, ৩, ৪-এ মোট ১০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলি সরকারি জমিতে তৈরি হয়েও রাজস্ব জমা দেয়নি। দু’বছরে এই বকেয়ার পরিমাণ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮১ টাকা। ২২.৩৯ একর এমন জমিতে রয়েছে বেসরকারি স্কুল, মিল, মার্কেট কমপ্লেক্স, শোরুম, দোকান। একর প্রতি বছর দু’হাজার টাকা এবং ৮৬ শতাংশ সারচার্জ দেওয়ার কথা এগুলির। কিন্তু প্রশাসনের ভাঁড়ারে কিছুই আসেনি। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, বকেয়া রাখা ইটভাটা এবং বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে নোটিস ইস্যু করা হচ্ছে। কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হলেই অর্থ আদায় সহজ হবে।
  • Link to News (বর্তমান)